বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৭৫)
তারিখঃ—১২/ ১০/ ২০১৭ আজকের
আলোচ্য বিষয়ঃ-- [বেদযজ্ঞ করে উপযুক্ত পিতা-মাতা হবার সহজ পথ।]
আমি পৃথিবীর মাটিকে এমনি উর্বরা করে রেখেছি জল,
বায়ু, মুক্ত আকাশ, ও তেজ দিয়ে যে এখানে যে বীজ পড়বে, তাই অঙ্কুরিত হয়ে পত্রে,
ফুলে, সৌরভে ও ফলে পূর্ণ হয়ে উঠবে স্বাভাবিক নিয়মের পথ ধরে। আমি সেই উর্বরা পচা
মাটি দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছি। তার দেহে তারপরে রক্ত-বীজের সৃষ্টি করেছি। সেই
রক্ত বীজ দ্বারা তারা মাটিতে উৎপন্ন হবে ও মাটিতে বাস করবে ও মাটি থেকে উৎপন্ন
খাদ্য খেয়ে পুষ্টিলাভ করে রক্তবীজের দেহ নিয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের দেহে যে রক্ত
বীজের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তা মাটি থেকে উৎপন্ন হয়েছে ও মাটির সাথে সম্পর্ক রেখে
প্রাণবন্ত হয়ে রয়েছে। এই রক্তবীজ থেকে মানব জীবনের উৎপত্তি হচ্ছে ও কালের কবলে পড়ে
তা মাটিতে শুকিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেকে জানতে পারছে না মানব আত্মা রূপে ও অমৃতের
সন্তান রূপে মাটিকে আশ্রয় করে থাকার জন্যে। মাটি থেকেই তারা জ্ঞান সঞ্চয় করে মাটির
জগতের উন্নতি ঘটাচ্ছে নিজের
সুখ-স্বাচ্ছন্দের জন্যে। তারা আর নিজেকে জানতে পারছে না অমৃতের সন্তান রূপে।
ভাগ্যক্রমে দু-চার জন মানব আত্মা আমার আশ্রয়ে
এসে জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পায়। তারা মাটির মায়া ত্যাগ করে মানব জীবনের প্রকৃত
সত্যকে জানার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। আমার আশ্রয়ে এসে তারা সত্য জেনে মিথ্যাকে ত্যাগ
করে জ্ঞানী হয়ে ওঠে। জ্ঞান দ্বারা তারা রক্ত-বীজকে শোধন করে অমৃত বাহিনী স্রোতে
তাকে পরিণত করে। তখন তাদের দেহের রক্ত-বীজ হয়ে ওঠে অমৃত বীজ। এই অমৃত রক্ত বীজ
দ্বারা যেসব সন্তান-সন্ততি উৎপন্ন হয় তারা সকলেই অমৃতের সন্তান হয়ে জন্ম গ্রহণ করে
মাটির বুকে। তাই পিতা-মাতা হবার আগে জ্ঞান দ্বারা নিজেদের রক্ত-বীজকে শোধিত করা
একান্ত প্রয়োজন প্রত্যেক মানব-মানবীর।
যদি মানব –মানবী জ্ঞান দ্বারা অমৃত পান করে
তাদের রক্ত-বীজকে শোধন না করে তবে পৃথিবীর মাটিতে কেবল রক্ত বীজের বংশধর জন্ম
নিবে। এই সন্তানরা কখনো তাদের আসুরিক মনোভাবকে জয় করে মানুষ ও দেবতার গুণলাভ করতে
সক্ষম হবে না। চিরকাল পৃথিবীর বুকে রক্ত-বীজের বংশধরেরা রাজত্ব করবে, এখানে মানুষ
ও দেবতাদের তারা কখনো মান—মর্যাদা দিবে না।
আমার দৃষ্টিশক্তি
প্রখর। আমি সবার অন্তরের কথা জানি ও অন্তরকে দেখতে পাই। তোমরা যতই আবরণ দিয়ে তোমাদের রক্ত-বীজ নির্মিত দেহকে ঢেকে রাখো
না কেন, তোমাদের মন পড়ে থাকে সেই ভাগারের উপর। সেই পচা-নোংরা—আবর্জনা থেকেই তোমরা
তোমাদের সন্তানকে উৎপন্ন কর ও তার রূপ দাও। সেজন্য তোমরা খুব কম জনই উপযুক্ত পিতা-মাতার
আসন অলংকৃত কর।
তোমরা যে গোপন তত্ত্ব জানতে না তা তোমাদেরকে জানানো
হচ্ছে পরিশুদ্ধ করে তুলে নেওয়ার জন্যে বিশ্বমানব শিক্ষার মঞ্চে। আমি তোমাদেরকে যে সব তত্ত্ব
জানাচ্ছি তা তোমাদের নিকট নতুন মনে হলেও এসব তত্ত্ব অতি প্রাচীন। এই মঞ্চে কত নবি,
অবতার,মহামানব জ্ঞানতরী আমার নির্দেশে সৃষ্টি করেছে ও মানব জাতিকে পথ দেখিয়ে যুগে
যুগে রক্ষা করেছে তার হদিশ তোমরা খুব কম জনই জানো। রক্তবীজের রক্তের ধারায় যখন
পৃথিবী আসুরিক শক্তিতে ছেয়ে যায় তখনি রক্তবীজকে ধ্বংস করার জন্য আমার জ্ঞান
বিজ্ঞানের ঘর থেকে অবতীর্ণ হয় বিশ্বমহাযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য জ্ঞানতরী। এই জ্ঞান
তরীতে চেপে মানুষ সৎ-চিন্তা করতে করতেই আমার আশ্রয়ে এসে উপযুক্ত পিতা-মাতা হয়ে পৃথিবীকে আসুরিক
শক্তি থেকে মুক্ত করে স্বর্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment