বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ
অভিযান(৬৫) তারিখঃ—০২/ ১০/ ২০১৭ আজকের
আলোচ্য বিষয়ঃ--[ যারা
বেদযজ্ঞশীল তাঁদের সিংহাসনের ভিত্তিমূল
সত্যপরায়ণতা, ধর্মশীলতা ও ন্যায়বিচার।]
ধর্মহীন রাজা ও বলহীন সিংহকে কেউ ভয় করে না। ভয়
হচ্ছে রাজদণ্ডের প্রতীক। ধর্মহীন রাজাকে দেখে প্রজারা ভয় করে না। রাজার সমালোচনা
যখন প্রজারা শুরু করে তখনি দেশে অশান্তি দেখা যায়। সেই অশান্তি থামাতে গিয়ে
ধর্মহীন রাজা ন্যায়দণ্ড প্রয়োগ করে ন্যায়বিচার করতে সমর্থ হন না। ফলে দেশে রাজা ও
প্রজার মধ্যে ভেদজ্ঞান প্রবল আকার ধারণ করে ও অশান্তির আগুনে রাজা-প্রজা উভয়েই
জ্বলে-পুড়ে মরে। বলহীন সিংহ যদি বনের রাজা হয় তবে কোনো পশু তাকে রাজা বলে মান্য করে না। তেমনি ধর্মহীন রাজার
হাতে ন্যায়দণ্ড শোভা পায় না। তাঁকে কোনো প্রজা মন থেকে মেনে নিতে না পারায় দেশে
অশান্তি সৃষ্টি হয়—এই অরাজকতা রাজার দুর্বলতা, বলহীন সিংহ-এর ন্যায়। তাই যে কোনো
দেশের রাজার প্রধান গুণ হচ্ছে ধর্মশীলতা ও ন্যায় বিচারের দক্ষতা।সেটাই হচ্ছে
রাজসিংহাসনের ভিত্তিমূল। তোমরা বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী – সকলেই ঈশ্বরের রাজত্বে
রাজা। তোমাদের রাজ সিংহাসনের ভিত্তিমূল হচ্ছে ধর্মশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা।তোমরা যদি
তোমাদের ভিতকে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারো—তাহলে কোনোদিন তোমাদের রাজত্বে অশান্তির
বাতাবরণ সৃষ্টি হবে না। ছোট হোক আর বড়ো হোক তোমরা রাজত্ব গড়ে তোলো। বিশ্বমানব
শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র সেই রাজ্যের রাজধানী। তোমরা স্বাধীনভাবে রাজত্ব চালাও। রাজা
ও প্রজার মধ্যে যেন ভেদ-জ্ঞান জাগ্রত না হয়। যেখানে ভেদ-জ্ঞান সেখানেই বেদজ্ঞান
মৃত। বেদজ্ঞান ছাড়া মানুষ নিজেকে জানতে সক্ষম হয় না। বেদ কথাটির অর্থ সত্যজ্ঞান।
যা চিরন্তন সত্য তাই বেদ। প্রত্যেক মানুষের অন্তর হলো বেদের খনি। একবার যদি
অন্তরের বেদ খুলে যায় তাহলে দেখবে তোমার কলম থামবে না। সেখান থেকে যা বের হবে তাই
রত্ন আকারে প্রকাশ পাবে। সেই বেদ-ই হবে তোমাদের সিংহাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূল।
তোমাদের হৃদয় মন্দির তখন ঈশ্বরের
ধর্মমন্দির ও ন্যায়ালয়ের সাথে সর্বদা যুক্ত থাকবে। তোমাদের অন্তরে ফুটে উঠবে
ধর্মজ্ঞান ও ন্যায়বিচারের সত্য জ্ঞান। যা দিয়ে তোমাদের রাজত্ব চলবে আপন গতিতে সত্য
ও ন্যায়ের পথে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।


No comments:
Post a Comment