Saturday, 7 October 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৭০ তারিখঃ-- ০৭/ ১০/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৭০) তারিখঃ—০৭/ ১০/ ২০১৭                                                               আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-- [বিশ্বমানব শিক্ষার মূল লক্ষ্য নিজেকে জেনে মানুষ হও]
নিজেকে জানো, নিজেকে বোঝ। নিজেকে জানলেই বিরাটের বিরাটত্বকে জানা যাবে। নিজেকে জানাই হচ্ছে সবকে জানা। নিজেকে জানতে গেলে নিজের জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হবে, যুক্তির উপর নির্ভর করতে হবে। জ্ঞানের যন্ত্রে যা টিকবে না তা নিয়ে অযথা মাথা ঘামাতে যাবে না। জ্ঞানই সকল ধ্যান- ধারণার মূল। জ্ঞানই হচ্ছে মানুষের পোশাক। এই পোশাক না পড়লে মানুষ উলঙ্গ পশুদের ন্যায় এই প্রকৃতির বুকে বিচরণ করবে, এটা স্বাভাবিক। এই মানুষ হবার জন্য কাউকে মঠ, মন্দির, গির্জায় যেতে হবে না। কাউকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান হতে হবে না, কেবল চিন্তা শক্তিটা বাড়িয়ে চিন্তা করতে হবে—আমি কোথা হতে এসেছি—কিভাবে এসেছি—কেন এসেছি এবং কোখায় যাব? এই জানাটা আগে ভাল করে জেনে নিতে হবে। তাহলেই আর জীবনে চলার পথে ভুল হবার ভয় থাকবে না।সংস্কার বা কল্পনার মাঝে নিজেকে ছেড়ে না দিয়ে যার যার নিজের অফুরন্ত শক্তির বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের দিব্য স্বরূপকে আজ আমরা ভুলে গেছি বলেই সব কিছুতেই গরমিল দেখছি। নিজের মানবিক রূপটাকেও ফুটিয়ে তুলতে পারছি না কর্মক্ষেত্রে। কেউ সত্য বললেও আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না, বা মেনে নিতে পারছি সত্যকে কেন? এর একটাই কারণ আমরা এমনভাবে নিজেকে পানা পুকুরে আবদ্ধ করে ফেলেছি যে সেই পুকুর থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না ও ভাবতে পারছি না সেই সাগর প্রকৃতই আছে কিনা সেই কথা। যদি সাগরের মহাস্রোতের সাথে মেলার ইচ্ছে না থাকে তবে কি সে কোনদিন তার সাথে যুক্ত হতে পারবে?
 জ্ঞান ও বুঝের চর্চা করে সংস্কার কে কাটিয়ে উঠতে পারলেই সবাই বুঝতে পারবে ভগবানের ভগবত সত্তাকে। তখন দেখতে পাবে ও উপলব্ধি করতে পারবে বিরাটের বিরাটত্ব নিয়েই সবাই সৃষ্টি। তাই নিজেকে জানলেই সেই বিরাটকে জানা যাবে এবং বুঝতে পারা যাবে যাবে যে, চিরজাগ্রত শক্তি বা সত্তা হতে সবাই এসেছে। বিরাটের সেই বিরাট শক্তি সবার ভেতরেই রয়েছে পূর্ণমাত্রায় সহজাতভাবেই। যাকে জানা নেই তার উপর নির্ভর করছি বলেই কিন্তূ আমাদের শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পরনির্ভরশীল ব্যক্তির কোনদিন সুখ- শান্তি- জ্ঞান আসতে পারে না। তাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে কোন সংস্কারের বেড়াজালে না পড়ে বাস্তব বুদ্ধির দ্বারা বিশ্বরহস্য বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। প্রকৃতির রহস্যকে জানতে হবে। এর জন্য কারো উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের প্রতি আস্থা অর্জন করে তন্ন তন্ন করে নিজেকেই বিশ্লেষণ করতে হবে। নিজের ভিতরে যিনি আছেন তাকেই ধ্যান করতে হবে এবং তার সঙ্গে যোগসুত্র স্থাপন করতে হবে। আলাদা করে কাউকে ডাকতেও হবে না। কারও পুজা বা উপাসনাও করতে হবে না। প্রত্যেকের মধ্যে সেই শক্তির খেলা দেখে তখন বিশাল প্রেমের সাগর নিজের মধ্যে দেখতে পাবে। আর তখন মানুষ তার গুণ হারাবে না শত লোভে- মোহে অভাব অনটনে পড়েও। পশু-পাখী, গাছ-পালা ও পরিবেশের সর্বত্র নিজের আত্মার ছায়া দেখতে পাবে। এটাই হচ্ছে মানুষের জ্ঞান ও প্রেমের জগত। এই সমদর্শী মানুষ এখন দুর্লভ তাই প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। মানুষের চিন্তা করার সময় এসেছে এই বিজ্ঞানের কোলে বসে তাই আমরা তাদেরকে ডাক দিয়ে বলছি—নিজেকে মানুষ জেনে মানুষ হও ও তাঁর সৃষ্টির সবাইকে ভালবাসো ও মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে সুস্থ ভাবে এই পৃথিবীর কোলে বাঁচতে দাও। জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর এই সত্যকে বাস্তবে রূপ দাও—তবেই তোমরা এই পৃথিবীতে সুখে শান্তিতে বাস করতে পারবে ও এই পৃথিবীকেই স্বর্গ ভূমি রূপে দেখতে পাবে। নচেৎ কারো মুক্তি নাই। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment