Monday, 4 September 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৭ তাং ০৪/ ০৯/ ২০১৭


বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৭) তারিখঃ-০৪/০৯/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোরশালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- [ বেদের মতে সকল মানুষের ধর্ম্ম এক, সকল ধর্ম্মের মূল এক, তা হলো জীবের সেবা করা, মানুষকে উত্তরণের পথ দেখানো এবং পরমাত্মা বা বিশ্বপিতার সাথে একীভূত হওয়ার চেষ্টা করা।]
পাঁচ হাজার বছরেরও আগে সিন্ধুনদের তীরে হরপ্পা- মহেঞ্জোদারো সভ্যতার জন্ম হয়েছিল মানুষের এক সনাতন ধর্ম্মকে কেন্দ্র করে। একই সময়ে চীনের ইয়াং-সি-কিয়াং ও হোয়াং হো নদীর তীরে যে উন্নত মানব সভ্যতার জন্ম হয়েছিল, তাও এক সনাতন ধর্ম্মকে কেন্দ্র করে। আমরা গভীরভাবে গবেষণা করে দেখলেই দেখতে পাবো সারা পৃথিবীর মানুষের ধর্ম্ম ছিল এক। তাই কেউ ধর্ম্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেন না। বৈজ্ঞানিক চেতনার সঙ্গে দার্শনিক ভাবনার সুসংহত মিলন ঘটিয়ে কিভাবে মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে, সেই ব্যবস্থায় ছিল সেযুগের মানবশিক্ষায়। কালের কবলে পড়ে অনেক সত্য ধামা চাপা পড়ে যায়, তখনি মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে গিয়ে পড়ে এবং মানুষে –মানুষে, মানুষের ধর্ম্মে ধর্ম্মে বিভেদ সৃষ্টি হয়। বিশ্বমানবতার প্রতীক হিসাবে ভারত সহ পৃথিবী্র বিভিন্ন দেশে অনেক মহামানব জন্মেছেন। তাঁরা সকলেই নিজ নিজ ধর্ম্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে দেশ- কাল- পাত্র নির্বিশেষে বিশ্বজনীন করে তুলে নিজ নিজ তথ্য ও তত্ত্ব প্রকাশ করে গেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সমগ্র মানবজাতি এখনোও মহাসত্যকে মেনে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এক জাতি- ধর্ম্ম- বর্ণের মানুষ হয়ে উঠতে পারেন নি। সকলেই নিজ নিজ জাতি ও ধর্ম্মের মহাপুরুষ নিয়ে মাতামাতি করলেও, কেউ তাঁদের আদর্শে মানব সমাজকে একমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন করেন না। আধুনিক বিজ্ঞান সারা বিশ্বকে এক ঘরে বন্দী করেছে, তাহলে কেনো যা সত্য মানব জীবনে, তাকে বিজ্ঞান এক মঞ্চে এনে মানব সমাজে শান্তি- সাম্য- সত্য ও ঐক্যের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না? বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা প্রাচীন মুনি- ঋষিদের শিক্ষা- বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার শিক্ষা প্রাচীন মুনি- ঋষিদের শিক্ষা। তাঁরা কেউ দেশ- কাল- পাত্রের মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা সকলেই ছিলেন বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী বা বেদের কর্ম্মী। তাঁদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে দর্শনশাস্ত্র- সাহিত্য- সমাজ- রাজনীতি- অর্থনীতি এমনভাবে যুক্ত থাকতো যে যেকোন কাজই বিশ্বের সকলের মঙ্গল বিধানের জন্য সংসাধিত হতো। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment