বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৫৩)
তারিখঃ- ২০/ ০৯/ ২০১৭
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে আদ্যাশক্তি মহামায়ার ন্যায় সদায় বেদ
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করে যাও।]
আদ্যাশক্তি মহামায়ায় প্রকৃতি ও সকলের মাতা।
তিনি দেবতাদেরও মাতা, তাই তিনি দেবমাতা বলেও বেদে পূজিত হন। তাঁর নির্দেশে দেবরাজ ইন্দ্র অত্যন্ত আদর- যত্ন সহ
শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতেন। দেবমাতা বেদযজ্ঞের মাধ্যমে সদায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি
করতেন এবং সকলকে সেই প্রার্থনা – পূজা – স্তব- স্তুতি করার নির্দেশ দিতেন। তিনি
বলতেন—হে ঈশ্বর; আপনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব নামে নিজ মূর্তির দ্বারা জগতের
উৎপত্তি, স্থিতি ও নাশের কর্তা এবং আপনি কর্তাদেরও প্রভু। দেবতা, দৈত্য, যক্ষ,
রাক্ষস, সিদ্ধ, পন্নগ (নাগ), কুষ্মাণ্ড, পিশাচ, গন্ধর্ব, মনুষ্য, পশু, মৃগ, পতঙ্গ,
সরীসৃপ (সাপ), বহু বৃক্ষ, গুল্ম- লতা, সকল তৃণজাতি এবং স্থুল- মধ্যম- সূক্ষ্ম ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যত
দেহ- ভেদ পরমাণু আশ্রিত আছে, সেসবই আপনি।
হে প্রভো; আপনার
মায়াই পরমার্থতত্ত্ব না জানা পুরুষদের মোহিত করে, যাতে মূঢ় ব্যক্তি অনাত্মাতে
আত্মবুদ্ধি করে বন্ধনদশা প্রাপ্ত হয়। হে নাথ; পুরুষ যে অনাত্মাতে আত্মবুদ্ধি এবং
‘আমি আমার’ ভাব প্রাপ্ত করে, সেসব আপনার জগজ্জননী মায়ারই বিলাস। হে নাথ; সনাতন
ধর্ম পরায়ণ ও স্বধর্মপরায়ণ ব্যক্তি আপনার আরাধনা করেন, তিনি নিজ মোক্ষের জন্যই এই
সম্পূর্ণ মায়া পার করে যান। ব্রহ্মাদি সর্বদেবগণ এবং মনুষ্য ও পশু ইত্যাদি সবই
বিষ্ণুমায়ারূপ মহা আবর্তে পড়ে মোহরূপ অন্ধকারে আবৃত রয়েছে। হে ভগবান; জন্ম- মৃত্যু
চক্রে আবর্তিত এই মানব- জীবের ভব- বন্ধন বিনাশকারী আপনার আরাধনা করেও যারা নানা
প্রকার কামনা আকাঙ্ক্ষা করে, সেসব আপনারই মায়া।‘ আমি বেদযজ্ঞ করছি—আমি জ্ঞানী’
আমার এই অজ্ঞানতার বিনাশ করুন। আমিই বিষ্ণুমায়া শক্তির আশ্রিত আদ্যাশক্তি মহামায়া,
মহাকালী, দুর্গা দুর্গতনাশনী মহাশক্তি। ওঁ হ্রীং দুর্গায় নমঃ। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা
ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment