[ পবিত্র গীতার
৭০০ শ্লোক ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলা, ইংরাজী ও হিন্দিতে প্রায় ৭০দিন ধরে ৩০ থেকে ৩৫
টি গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে। আশা করি কমবেশি সকলেই পাঠ করেছেন, অনেকে লাইক করেছেন,
অনেকে লাইক করেননি। আপনাদের সকলের কাছে প্রশ্ন গীতার এই ৭০০ টি শ্লোকের মধ্যে কেউ
কি একটাও অবান্তর বা কোন উস্কানি মূলক কথা পেয়েছেন? আপনারা নিরপেক্ষভাবে বিচার করে
মন্তব্য করুন – গীতা বিশ্বমানবের শিক্ষা গ্রন্থ কিনা? গীতা কোন দল- মত- সম্প্রদায়
গড়ে তোলার জন্য অবতীর্ণ হয় নি। এই পবিত্র গ্রন্থ কেবল মানুষ তৈরি করার জন্য
অবতীর্ণ হয়েছে ধর্ম্মক্ষেত্র- কুরুক্ষেত্রের সংগ্রাম মঞ্চে এক মানবিক অবক্ষয়ের
যুগে, মানবিক মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য। আজকে কেবল ভারত নয় সারা বিশ্বে মানবিক
অবক্ষয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। সব দেশের নাগরিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও হতাশায়
ভুগছে, কারণ একটাই তারা কেউ মানব জীবনের সত্যতাকে খুঁজে পাচ্ছে না। গীতা সেই
সত্যের পথপ্রদর্শক বিশ্বমানবের জন্য। একমাত্র গীতাই হচ্ছে বিশ্বমানব শিক্ষার
গ্রন্থ—বিশ্বমানবের জন্য। আজ ভারত সরকার গীতাকে মর্যাদা দিয়ে জাতীয় গ্রন্থরূপে
স্বীকৃতি দিতে যাদের জন্য ভয় পাচ্ছেন, তাঁদেরকেই এই গীতা পাঠ করার জন্য অনুরোধ
করছি। অন্ধকে আলোদান করা বা চক্ষু দান করার মতো জগতে দ্বিতীয় কোন পুণ্যের কাজ নেই।
গীতা সেই অন্ধকে আলোদান বা চক্ষু দান করার গ্রন্থ। রাজা ধৃতরাষ্ট্র পুত্র স্নেহে
অন্ধ ছিলেন, সঞ্জয়ের নিকট থেকে তিনি গীতার উপদেশ শুনলেন। তারপরে পরেই তিনি
দিব্যচক্ষু লাভ করে মুক্ত হয়ে গেলেন। আমরা গীতা পাঠ শেষ করেছি। এবার আমরা আজ থেকে
গীতার মাহাত্ম শুনবো। আজকে ১ থেকে ১০ শ্লোক পর্যন্ত মাহাত্মের কথা বলা হচ্ছে।]
১) ঋষি বললেন—হে
সুত, প্রাচীনকালে নারায়ণক্ষেত্রে ব্যাসদেব কর্ত্তৃক গীতা মাহাত্ম্য যেরূপ
কীর্ত্তিত হয়েছিল, আপনি তা যথাযথ বর্ণন করুন।
২) সুত বললেন—ভগবন,
আপনি উত্তম জিজ্ঞাসা করেছেন, এ পরম গুহ্যতম, সেই উত্তম গীতা মাহাত্ম্য কে বর্ণন
করতে সমর্থ?
৩) কৃষ্ণই এ
সম্যক রূপে জানেন, কুন্তীপুত্র অর্জ্জুন, ব্যাসদেব, শুকদেব, যাজ্ঞবল্ক্য ও
মিথিলাধিপতি জনক কথঞ্চিত অবগত আছেন।
৪) অন্যান্য সকলে
অপরের নিকট শ্রবণ করে তাঁরা লেশমাত্র কীর্ত্তন করেন। আমিও ব্যাসদেবের মুখ হইতে
যেরূপ শ্রবণ করেছি, তাই এখানে কিঞ্চিত বলছি।
৫) সমগ্র উপনিষদরাশি গাভীস্বরূপ, গোপালন্দন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দোহনকর্ত্তা,
অর্জ্জুন বৎস এবং গীতামৃত দুগ্ধস্বরূপ, সুধীগণ তাহা পান করেন।
৬) যিনি লোকত্রয়ের উপকারার্থ প্রথমে অর্জ্জুনের সারথ্য স্বীকার করে এই
গীতামৃত প্রদান করেছেন, সেই পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণকে নমস্কার।
৭) যিনি ঘোর সংসার- সাগর উত্তীর্ণ হতে ইচ্ছা করেন, তিনি গীতারূপ নৌকার
আশ্রয় গ্রহণ করলে সুখে পার হতে পারেন।
৮) যে পুনঃ পুনঃ শ্রবণ ও অভ্যাসদ্বারা গীতাজ্ঞান লাভ করে নাই, সে যদি
মোক্ষবাঞ্ছা করে, তবে বালকের নিকটও উপহাস্যস্পদ হয়।
৯) যারা অহর্নিশ গীতাশাস্ত্র শ্রবণ বা অধ্যয়ন করেন, তাঁদেরকে মনুষ্যজ্ঞান
করবে না, তাঁরা নিঃসন্দেহে দেবস্বরূপ।
১০) যে গীতাজ্ঞান দ্বারা শ্রীকৃষ্ণ অর্জ্জুনকে প্রবোধ দিয়েছিলেন, তাতে
স্বগুণ অথবা নির্গুণ উৎকৃষ্ট ভক্তিতত্ত্ব ব্যাখ্যাত হয়েছে।
[ ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়। জয়
বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।]

No comments:
Post a Comment