বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪০)
তারিখঃ- ০৭/ ০৯/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোরশালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞই তন্ত্রবিজ্ঞান, এই বিজ্ঞানের দ্বারা বিষধর
সাপকেও বশে আনা যায়, এই তন্ত্রবিজ্ঞানের রহস্য সাধক জেনে নিলে তখন আর তাঁর কারো
প্রতি হিংসা- বিদ্বেষ থাকে না, তিনি শিব হয়ে সংসারে বিরাজ করেন সবার কল্যাণতরে।]
বেদযজ্ঞ বা তন্ত্রবিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস-
শ্রদ্ধা- ভক্তি যাদের আছে তাঁরাই এই বিজ্ঞানের সুফল লাভ করতে পারেন। এই বিদ্যা
শুধু বিষধর সাপকে বশ মানানোর জন্য নয়, এই বিদ্যার দ্বারা সমগ্রমানব জাতিকেও নিজের
বশে এনে তাঁদের দ্বারা কল্যাণমুখী কাজ করানো যায়। শিবের গলায় যে বিষধর সাপ রয়েছে,
সে ভয়ংকর হলেও সকলকে আত্মিক জগতে আহ্বান করে চলেছে। এই আত্মিক জগতে পৌঁছানোর
উৎকৃষ্ট পথ শিব মূর্তির মধ্যে বিরাজমান। তিনিই আমাদেরকে ঈশ্বর প্রদর্শিত পথেই
এগিয়ে গিয়ে জীবজগতের প্রতিটি প্রাণী, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ পর্যন্ত সবই
ঈশ্বরের সৃষ্টি এই বার্তা দিয়ে চলেছেন। প্রাণী হত্যা থেকে নিজেদের দূরে থাকার জন্য
নির্দেশ দিচ্ছেন। একটা পিঁপড়েও ভালবাসার পাত্র, শ্রদ্ধার পাত্র, এই জ্ঞানই হলো
শিবজ্ঞান বা তন্ত্রবিজ্ঞানের জ্ঞান। সর্ব্বজীবে প্রেম ও শ্রদ্ধাই ঈশ্বরকে কাছে
পাবার সহজতম রাস্তা। মনের মধ্যে লোভ, হিংসা, অহংকার থাকলে শুধু ধ্যান- জপ- সাধনায়
বিশেষ কোনো ফল হয় না, সিদ্ধিলাভ তো অনেক দূরের কথা। শরীর শরীরকে চেনে না, তাই
একজীব অন্যজীবের শরীরকে খাদ্যরূপে আনন্দের সাথেই গ্রহণ করে। যেমন মানুষ সর্বভুক
হয়ে সব জীবের শরীরকে ভক্ষণ করে। এটা আত্মাকে না জানার অজ্ঞতা। আত্মা আত্মাকে চেনে,
এই আত্মজ্ঞান হয়ে গেলেই মানুষ তখন জীব থেকে শিব হয়ে যান। তন্ত্রবিজ্ঞানের এই জ্ঞান
লাভ করে তখন বিষধর সাপের মধ্যেও নিজ আত্মাকে দেখতে পান। ওঁ সত্যম শিবম সুন্দরম ওঁ
নমঃ শিবায়।

No comments:
Post a Comment