Saturday, 2 September 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৫ তাং ০২/ ০৯/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৫) তারিখঃ- ০২/ ০৯/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোরশালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞের আসরে ভারতীয় মুনি- ঋষিদের ন্যায় প্রতিটি মানুষের জীবনের ভবিষ্যৎ  উচ্চাশা নিয়ে এগিয়ে চলো, তাহলেই মানুষের ভাল করতে পারবে।]
আমি ও আমার পরিবারের লোকজন সুখে স্বচ্ছন্দে থাকবে আর আমার চারদিকে অসংখ্য দুর্দশাগ্রস্থ, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষ কোনোরকমে দিনযাপন করতে বাধ্য হবে, এই দর্শনে ভারতীয় মুনি- ঋষিরা বিশ্বাস করতেন না। তাঁরা মানুষকে শিক্ষা দিতেন, একে অপরের দুঃখমোচনের প্রচেষ্টা চালাও, যারা সমাজের একান্ত অধঃপতিত মানুষ তাঁরাও ঘৃণার পাত্র নয়। অধিকাংশ মানুষই প্রলোভনে পড়েই বা অভাবে পড়েই পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারা পুনঃ যদি শুভ প্রেরণা লাভে সমর্থ হয় তাহলে তারাই আবার আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে। মানুষের ভালো করা, মানুষকে সত্যি মানুষ করে তোলা সকলের কর্ত্তব্য। আর তা যদি আমরা চাই তাহলে আমরা কেবলমাত্র প্রেমের মাধ্যমে—ভালোবাসার মাধ্যমেই তা করতে পারি। মানুষের ভালবাসাই মানুষের অন্তরকে বিশাল করে তোলে, অন্তর থেকে সমস্ত অজ্ঞান অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হয় মুহুর্তের মধ্যে। কোন মানুষই কারো দয়া, করুণা চায় না, মানুষের কাছে দয়া, করুণা একরকম ঘৃণারই প্রতীক। আজ স্বাধীন ভারতবর্ষে শিক্ষিত ছেলে – মেয়েরা এক শ্রেণির মানুষের দয়া ও করুণার পাত্র হয়ে উঠেছে। তাই তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরে যখন একটু সরকারী সাহায্য করুণা ও দয়া রূপে পাচ্ছে তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই স্বার্থপর জীব হয়ে উঠছে। সরকার ও নাগরিক বা রাজা ও প্রজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে না উঠলে উভয়েই স্বার্থপর হয়ে উঠবে। সকল মানুষের ভবিষ্যৎ ভালো করার কাজে কেউ কাউকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না। তাই দেশের প্রত্যেক নাগরিককে শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল করে গড়ে তুলতে হবে বেদযজ্ঞের মাধ্যমে, সকলকে জাতীয়জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment