Sunday, 3 September 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৬ তাং ০৩/ ০৯/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৬) তারিখঃ- ০৩/ ০৯/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোরশালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- [বেদযজ্ঞ করেই জানতে হবে ভারতীয় দর্শনের আসল সত্য লুকিয়ে আছে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মধ্যে, ভারতীয় মুনি- ঋষিরা পরমাত্মা বা জীবাত্মাকে গণিত শাস্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করে এই মহাসত্যকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন।]
সভ্যতার আদিকাল থেকে পৃথিবীর বুকে এক অনন্ত প্রাণ প্রবাহ বয়ে চলেছে। আমরা তার এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ মাত্র। দর্শনের আসল সত্য লুকিয়ে আছে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মধ্যে। তাই ভারতীয় মুনি- ঋষিরা বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার সাথে দর্শনের সুক্ষ্মতত্ত্বকে এমনভাবে রেখে গেছেন, যার সাহায্য নিয়ে মানুষ গবেষণাগারে অতি উন্নত যন্ত্র একের পর এক আবিষ্কার করে চলেছেন। প্রাচীন মুনি –ঋষিরা গণিতশাস্ত্রকে গুরুত্ব দিয়েই জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক আবিষ্কার করেন, যা বর্তমানে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে বিভিন্ন দিকে সাহায্য করছে। দর্শনশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, রাষ্ট্রশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র, সমাজশাস্ত্র ইত্যাদি শিক্ষা মানুষকে শাস্ত্ররূপে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করতে হতো, যাতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার কুফল মানব সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের থেকেও বড় অস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্র সেই সময় মানুষের হাতে ছিল। যে অস্ত্রের দ্বারা মানুষ ইচ্ছা করলেই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকে ধ্বংস করতে পারতেন কিন্তু সেসব শিক্ষা শাস্ত্রের দ্বারা এমনভাবে দেওয়া হতো যে মানুষ তা প্রয়োগ করার আগে বেশী করে তার কুফল নিয়ে বেশী চিন্তা করতেন। আজ গভীরভাবে চিন্তা করলেই আমরা দেখতে পাবো বিজ্ঞানের সমস্ত শাখার উন্নতির মূলে রয়েছে শাস্ত্রীয় জ্ঞান। বিজ্ঞানীরা দিন- রাত্রি অন্তরে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন এবং একটার পর একটা বিজ্ঞানজগতের রহস্য উন্মোচন করে নিত্যনুতন যন্ত্রপাতি মানুষের জীবনকে সহজসাধ্য করার জন্য আবিষ্কার করে চলেছেন। আমরা তাঁদের জীবনের শাস্ত্রীয় আবিষ্কারকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ না করে ব্যাবসায়িক ভিত্তিতে গ্রহণ করছি। ফলস্বরূপ আমাদের জীবন থেকে শ্রদ্ধা বিষয়টি দিন দিন ক্ষয় হয়েই চলেছে। বিজ্ঞানের সাথে আধ্যাত্মিক জীবনের সাধনার শিক্ষা জড়িয়ে না থাকলে মানুষ বিজ্ঞানের মূল্যবোধে জাগ্রত হয়ে বিজ্ঞানকে সমগ্র মানব জাতির কল্যাণে নিয়োজিত করতে সক্ষম হয় না। সেইসাথে সর্বমুক্তির জন্য মানুষ নিজেকে নিয়োগ করতেও সক্ষম হয় না। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment