বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪২)
তারিখঃ- ০৯/০৯/ ২০১৭
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- [ বেদযজ্ঞ করে মন- প্রাণ- আত্মার সমন্বয় সাধন করে
নির্জনে সাধনা করো, তবেই মানব শরীরের গরিমা আর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে।]
সাধনা না করলে কেউ সিদ্ধিলাভ করার কথা চিন্তা
করতেও পারে না। প্রকৃতপক্ষে সাধনা করার জন্যই এই মানব দেহ এবং মানব দেহের
মস্তিষ্ক। এই মানব দেহের মস্তিষ্কেই রয়েছে বিশাল বিজ্ঞানাগার। এই বিজ্ঞানাগারের
সাথে সবার মন- প্রাণ- আত্মা যুক্ত। এখান থেকেই মানুষ লাভ করে চলেছে তার সভ্যতার
জীবনের চাবিকাঠি। মনের নিজস্ব কোন স্বতন্ত্র অবস্থা না থাকার জন্য সে সর্বদা
চঞ্চল। আত্মা নিজে যে অবস্থায় থাকে, তার প্রভাব মনের উপরে আপনা আপনিই পড়ে যায়। আর
সেই প্রভাবের ফল স্বরূপ মনও সেই অবস্থার অনুগামী হয়ে যায়। যদি গভীরভাবে বিচার করা
যায়, মন, প্রাণ আর আত্মা এই তিনের নিজেদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন মানবশরীরকে বাদ
দিয়ে অতি দুর্লভ। এজন্যই তো মানব শরীরের গরিমা আর গুরুত্ব। আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের
যতরকমের সাধনা আছে সে সবই ক্রমশঃ মন- প্রাণ ও আত্মার সাধনা। কিন্তু শরীরের আশ্রয়
ছাড়া কোনোটাই সম্ভব নয়। কারণ, এই শরীরটাই হলো সাধনার পীঠস্থান। পিতা- মাতার দান এই
শরীর। তাঁরা যতটা সাধনা করে এগিয়ে গেছেন, তারপরে পুত্রের আধারের উপর তাঁদের মন-
প্রাণ- আত্মা ক্রিয়াশীল হয়ে অবস্থান করে। পিতা- মাতার প্রতি সন্তান- সন্ততি
শ্রদ্ধাশীল হলেই সাধনার ক্ষেত্রে তাঁদের শক্তি পুত্রের মন- প্রাণ – আত্মার সাথে
যুক্ত হয়ে যায়। আমরা মানব শরীরকে রক্ত, মাংস, মজ্জা, অস্তি ইত্যাদির দ্বারা
নির্মিত একটা যন্ত্রমাত্র মনে করি এবং সেই যন্ত্রটা প্রাণশক্তির দ্বারা সঞ্চালিত
হচ্ছে এইটুকুই বিশ্বাস করে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করি এইমাত্র। আমাদের মধ্যে
সাধন মার্গে গিয়ে প্রাণশক্তিঃ,মনঃশক্তিঃ আর আত্মশক্তির মিলন ঘটিয়ে চিৎশক্তির জাগরণ
ঘটাবার বিজ্ঞান রয়েছে, সেই বিজ্ঞানের সাধক খুবই দুর্লভ। এই চিৎশক্তিই হলো
তন্ত্রবিজ্ঞানের মহাশক্তি। মানব শরীরে এই মহাশক্তির স্থান হৃদয় মন্দিরে। যতক্ষণ এই
মহাশক্তি হৃদয়ে অবস্থান করে ততক্ষণ পর্যন্ত মানব শরীর হলো ‘শিব’। আর সেই শক্তি সরে
গেলেই ‘শব’। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।


No comments:
Post a Comment