বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৮)
তারিখঃ- ০৫/ ০৯/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোড়শালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[বেদযজ্ঞ করলেই
তন্ত্রসাধনার ফল পাওয়া যায় এবং আধ্যাত্মিক শক্তিবলে অসাধ্য- সাধন করাও সম্ভব হয়।]
ধর্ম্ম, অধ্যাত্মবাদ, প্রেম-প্রীতি-
ভালোবাসা আর আবেগের দেশ এই ভারতবর্ষ। এখানে বড় বড় বৈজ্ঞানিক, রসায়নশাস্ত্রবিদ্গণ
তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তাঁদেরকে দেখা যেতো ঘন্টার পর ঘন্টা যক্ষলোকের ৬৪
যোগিনীকে নিয়ে সাধনা করছেন, ধন কুবেরের শক্তি পাবার জন্য। তাঁরা এই বেদযজ্ঞ বা
তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধি লাভ করে পরশপাথর আবিষ্কার করেন। যে পরশপাথরের স্পর্শে তামা-
লোহা প্রভৃতি পদার্থ খাঁটি সোনাতে পরিণত হতো। এই তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান ভারতবর্ষে
কত মহান জন্মগ্রহণ করেছেন এবং অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ করে গেছেন তা এখন গবেষণা ও
বিশ্বাসের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। ভারত- তিব্বত- চীন নিয়ে গড়ে উঠেছিল তৎকালে এক
বিরাট আধ্যাত্মিক সভ্যতা। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নশাস্ত্র নিয়ে যারা পড়তেন
তাঁরা সকলেই ছিলেন তন্ত্রসাধক। আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অধ্যাত্মসাধনা বা
তন্ত্রসাধনার কথা শুনলেই নাক সিটকায়। এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেই ভারতের আদর্শ
নাগরিক হলেন পৃথিবীখ্যাত এক ভারতীয় দার্শনিক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ। তাঁর
গবেষণার বিষয় ছিল অদ্বৈত বেদান্ত। সে সময়ে
অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে পাশ্চাত্যের যে-সব সমালোচক হিন্দু দর্শন ও ধর্মের
ত্রুটি খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন, রাধাকৃষ্ণণ তাঁদের ধারণাকে সংশোধন করেন এবং ভারতীয় ও
পাশ্চাত্য দর্শনের মধ্যে সেতু বন্ধন করেন। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment