Monday, 11 September 2017

গীতা মোক্ষযোগঃ ১ থেকে ১০ শ্লোক



[ পবিত্র গীতা স্বয়ং সম্পূর্ণ বেদগ্রন্থ। ইহার পাঠ এক বেদযজ্ঞ। এই যজ্ঞ দ্বারা বেদভগবানের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ অর্চ্চনা হয়। যার হৃদয়ে শ্রদ্ধা আছে, অন্তরে বিন্দুমাত্র দোষদৃষ্টি বা অসূয়া নেই, সেই ব্যক্তিই গীতা পাঠ করবে এবং শুনবে। যে এই পবিত্র গীতা শুনবে, সে-ই মুক্তি লাভ করে কোন না কোন শুভলোকে যাত্রা করবে। যে সকল শুভলোকে মহাপুরুষেরা গমন করে থাকেন, সেখানেই তাঁদের সাথে একত্র স্থিতি হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জ্জুনকে বলছেন—“অর্জ্জুন, আমার এই রহস্য শাস্ত্র গীতার অমৃত যিনি পরিবেশন করেন এই জগতে, তিনি আমার সর্ব্বাধিক প্রিয়জন। তাহা অপেক্ষা প্রিয় আর কেহ হইবে না”। গীতার মধ্যে গৃহবাসী আর সন্ন্যাসীর মধ্যে বিরোধ নেই। কামী আর সন্ন্যাসীর মধ্যে যত  বিরোধযার ফলকামনা আছে সে কামী বা ভোগী। যার ফলকামনা নেই, সেই সন্ন্যাসী, সেই মুক্ত পুরুষ। আমরা গীতার সপ্তদশ অধ্যায় পাঠ শেষ করেছি, বিরাম না নিয়েআজকে শেষ অধ্যায় মোক্ষযোগঃ পাঠ শুরু করবো। এই অধ্যায়ে ৭৮টি মন্ত্র রয়েছে, আজকে আমরা ১ থেকে ১০ মন্ত্র উচ্চারণ করবো এবং মোক্ষলাভের পথে এগিয়ে যাবো। হরি ওঁ তৎ সৎ।]
১) অর্জ্জুন বললেন—হে মহাবাহু, হে হৃষীকেশ, হে কেশিদৈত্যহন্তা কৃষ্ণ, সন্ন্যাসের তত্ত্ব এবং ত্যাগের তত্ত্ব আমি পৃথক পৃথগ ভাবে জানতে চাই।
২) শ্রীভগবান বললেন—যত কাম্য কর্ম্ম আছে তার ত্যাগকেই পণ্ডিতগণ সন্ন্যাস বলে জানেন এবং সমস্ত কর্ম্মের ফল- ত্যাগকে সুক্ষ্মদর্শিগণ ত্যাগ বলে অভিহিত করেন।
৩) কোন কোন পণ্ডিত বলেন, কর্ম্মমাত্রই দোষ যুক্ত, অতএব উহা সর্ব্বদা ত্যাগ করা চাই। অপর কেহ কেহ বলেন যে যজ্ঞ, দান, তপস্যা প্রভৃতি কর্ম্ম ত্যাজ্য নহে।
৪) হে ভরতকুলশ্রেষ্ঠ, ত্যাগ সম্পর্কে আমার সিদ্ধান্ত শ্রবণ কর। ত্যাগ তিন প্রকার বলে কথিত।
৫) যজ্ঞ, দান ও তপস্যা, প্রভৃতি কর্ম্ম ত্যাজ্য নহে। এইগুলি অবশ্য করণীয়। যজ্ঞ, দান ও তপস্যা, বিদ্বান লোকেরও চিত্তশুদ্ধিকর।
৬) অতএব এই কর্ম্ম সকল নিরাসক্তভাবে ও ফলকামনা ত্যাগ করে করা কর্ত্তব্য। ইহাই আমার উত্তম ও নিশ্চিত মত।
৭) স্বধর্ম্ম হিসাবে যার যে কর্ত্তব্য বিধান দেওয়া হয়েছে, সেই কর্ম্ম ত্যাগ করা উচিত নয়। মোহবশতঃ সেই কর্ম্ম ত্যাগ করাকে তামস ত্যাগ বলে।
৮) কর্ম্মানুষ্টান দুঃখকর মনে করে শারীরিক কষ্টের ভয়ে যে কর্ম্ম ত্যাগ করা হয় তাকে রাজস ত্যাগ বলে। সেই ত্যাগ করে কেহই প্রকৃত ত্যাগের ফল লাভ করতে পারে না।
৯) হে অর্জ্জুন, আসক্তি ও ফলকামনা ত্যাগ করে কেবল কর্ত্তব্যবোধে যে বিহিত কর্ম্ম নিয়ত করা হয়, তা সাত্ত্বিক ত্যাগ বলে কথিত হয়।
১০) সত্ত্বগুণবিশিষ্ট স্থিরবুদ্ধি, সংশয়শূন্য, সাত্ত্বিক, ত্যাগী পুরুষ দুঃখকর কর্ম্মেও বিরক্ত হন না, সুখকর কর্ম্মেও আসক্ত হন না।
[ জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। জয় পবিত্র গীতা মাতার জয়।]

No comments:

Post a Comment