[শ্রীগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন –“ ওঁ তৎ
সৎ” পরমাত্মার নাম। তাই এই নামেই সকলে বেদযজ্ঞ যজ্ঞ করে যাও—তাতেই মুক্তি। স্রষ্টা সৃষ্টির মূল
উৎস। সৃষ্টির মাধ্যমেই তাঁর পরিচিতি। সৃষ্টির মধ্যেই স্রষ্টার পরিপূর্ণতা। জীব ও
জগৎ নিয়েই সৃষ্টি। ঈশ্বর, জীব ও জগৎ এই তিন মিলে এক অখণ্ডতা—ব্রহ্মের সমগ্রতা। এই
সমগ্রতার প্রকাশক “ ওঁ তৎ সৎ” এই মন্ত্র। ওঁ = প্রণব, ব্রহ্ম। তৎ = জীব। সৎ= জগৎ ।
ব্রহ্মের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ বেদ। জীবের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ব্রহ্মজ্ঞ। জগৎ কর্ম্মময়।
কর্ম্মের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ যজ্ঞ। তাই “ ওঁ তৎ সৎ” মন্ত্রে বেদ, ব্রহ্মজ্ঞ ও যজ্ঞকে
বুঝায় এবং সেই মন্ত্র শ্রদ্ধা সহকারে উচ্চারণ করলেই ঈশ্বর, জীব বা ব্রহ্মজ্ঞের ও
জগতের পূজা বা যজ্ঞ করা হয়ে যায়। আজ শ্রীগীতার শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগঃ থেকে ভগবান
শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত মন্ত্র ২৩ থেকে ২৮ শ্লোক সকলের পাঠ করার জন্য প্রদত্ত হলো।
২৩) “ ওঁ তৎ সৎ”
এই ত্রিশব্দ পরমাত্মার নাম--- ইহাই শাস্ত্রে কথিত আছে। এই নির্দেশ থেকেই
পুর্ব্বকালে বেদবিদ ব্রাহ্মণ, বেদ ও যজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।
২৪) এই জন্য
ব্রহ্মবাদীগণের যজ্ঞ, দান ও তপস্যাদি শাস্ত্রবিহিত কর্ম্ম সর্ব্বদা ওঁ শব্দ
উচ্চারণ করে অনুষ্ঠিত হয়।
২৫) যারা মোক্ষ
কামনা করেন, তাঁরা ফল কামনা ত্যাগ করে ‘ তৎ’ এই শব্দ উচ্চারণ পুর্ব্বক বিবিধ যজ্ঞ,
তপস্যা ও দান- ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করেন।
২৬) হে পার্থ,
সদ্ভাব ও সাধুভাবে অর্থাৎ কোন বস্তুর অস্তিত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বুঝাতে ‘ সৎ’ শব্দটি
প্রযুক্ত হয় আর বিবিধ শুভ কর্মেও ‘ সৎ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়।
২৭) যজ্ঞ, তপস্যা
ও দানে যে নিষ্ঠা তা বুঝাতেও ‘ সৎ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ঈশ্বরের প্রীতির জন্য
যে কর্ম্ম করা হয়, তাও ‘ সৎ’ বলে কথিত হয়।
২৮) হে পার্থ,
অশ্রদ্ধার সহিত যজ্ঞ, দান ও তপস্যা বা অন্য যা কিছু করা হয় সে সমস্তই অসৎ বলে কথিত
হয়। উহাতে ইহলোকে বা পরলোকে কোথাও শুভ ফল হয় না। [ ইতি শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ নামক সপ্তদশ
অধ্যায়। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র গীতার জয়।]

No comments:
Post a Comment