বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৪)
তারিখঃ- ০১/ ০৯/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোরশালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞকারীগণ
বহুত্বের মধ্যে একত্ব দর্শন করেন, বহুতে একত্ব দর্শন হলো সাত্ত্বিক জ্ঞানের
লক্ষণ।]
বেদযজ্ঞকারী হলেন সাত্ত্বিক জ্ঞানী। তাঁদের
কাছে নানা বলে কিছু নেই। “ বাসুদেব সর্ব্বং” এক বাসুদেবই সকল হয়েছেন। তিনি যখন বহু
হবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, তখনই তাঁর ইচ্ছাতেই নিখিল বিশ্বের সৃষ্টি। এই জ্ঞান
সাধকের সাত্ত্বিক জ্ঞান।
যে জ্ঞান বহুকে বহু মনে করে, তাদের মধ্যে
একত্বের সূত্রটি দেখে না, তা রাজস জ্ঞান। আর তুচ্ছ নশ্বর বিষয়ের অল্প কিছু জেনে
সকলই জানি, সকলই বুঝি,-- এই অহংকারী যে জ্ঞান—তা তামস জ্ঞান।
কর্ম্ম কর্ত্তা সাত্ত্বিক, যখন তাঁর কর্ম্মে
আসক্তি নাই—“আমি আমি” অহংকার নাই। কাজ করে সে ধৈর্য্য ও উৎসাহের সহিত, কিন্তু
চিত্ত নির্ব্বিকার, হর্ষবিষাদের ঊর্দ্ধে বিরাজিত। কর্ম্ম কর্ত্তা রাজস, যখন সে
বিষয়ানুরাগী, ফলকামী, পরধনলোলুপ, অশুচি ও হিংসুটে। সে কখনও হর্ষিত, কখনও বিষাদিত।
কর্ম্ম কর্ত্তা তামস হয়, যখন তার বুদ্ধি
অসমাহিত, অমার্জিত, গর্ব্বস্ফীত, শঠ, পরের অবমাননাকারী। এই কর্ত্তা অলস, বিষাদী ও
দীর্ঘসূত্রী।
বুদ্ধিকে সাত্ত্বিক বলা হবে তখনই, যখন তা
প্রবৃত্তি নিবৃত্তি, কার্য্য অকার্য্য, বদ্ধ ও মোক্ষ, ভয় ও অভয় সম্বন্ধে সর্ব্বদা
সজাগ। বুদ্ধিকে রাজসী বলা হবে তখনি যখন তা ধর্ম্মাধর্ম্ম কর্ত্তব্যাকর্ত্তব্য
বোধরহিত।
বুদ্ধিকে তামস বলা হবে তখনি, যখন তা
অধর্ম্মকে ধর্ম্ম মনে করে ও সকল ক্ষেত্রেই বিপরীত বুঝে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment