বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৭
আ’রাফ—২৬ থেকে ৩০ আয়াত।]
২৬) হে বনী আদম ( হে মানবজাতি)
তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং
সাবধানতার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট। এ আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা
উপদেশ গ্রহণ করে।
মর্মার্থঃ—জ্ঞানবিহীন মানুষ
উলঙ্গ জাতি পশুদের ন্যায়। তাই একমাত্র জ্ঞানের পোশাক মানুষের লজ্জাস্থানকে ঢাকতে
পারে।
২৭) হে আদম সন্তান! শয়তান যেন
তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলোভিত না করে যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে সে জান্নাত হতে
বহিষ্কৃত করেছিল, তাদের লজ্জাস্থান তাদেরকে দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে নিজে
এবং তার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদের দেখতে পাও না, যারা বিশ্বাস
করে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক করেছি।
মর্মার্থঃ—শয়তান মানব জাতির জ্ঞানের পোশাক খুলে
দিয়ে তাকে নির্লজ্জ করে তোলে, তখনি তাদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়। তাই
যারা জ্ঞানবিহীন বৃক্ষের ফল খায় তাদের অভিভাবক হয়ে উঠে শয়তান।
২৮) যখন তারা কোন অশ্লীল
আচরণ করে তখন বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষগণকে এ করতে দেখেছি এবং আল্লাহ্ও আমাদের
এর নির্দেশ দিয়েছেন। বল, আল্লাহ্ অশ্লীল আচরণের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ্
সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই।
মর্মার্থঃ—মানব জাতির অশ্লীল
কার্যকলাপের মূলেই হচ্ছে শয়তানী বুদ্ধি।
২৯) বল, আমার প্রতিপালক ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক নামাযে তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখবে এবং
তাঁরই আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁকে ডাকবে, তিনি যেভাবে প্রথমে
তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে।
মর্মার্থঃ—শয়তানের নিকট থেকে
মুক্ত হয়ে মানুষকে বিশুদ্ধ চিত্তের অধিকারী হতে হয় ফিরে যাবার জন্য।
৩০) একদলকে তিনি সৎপথে
পরিচালিত করেছেন এবং অপর দলের পথভ্রান্তি সংগতভাবে নির্ধারিত হয়েছে। তারা আল্লাহ্কে
ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক করেছিল ও নিজেদেরকে তারা সৎপথগামী মনে করত।
মর্মার্থঃ—যারা আল্লাহ্র অধীনে
বা আশ্রয়ে থেকে এখানে জীবন অতিবাহিত করে তারাই কেবল সৎপথগামী। আর যারা প্রকৃতির
অধীনে থেকে সংযমহীন জীবন যাপন করে তারাই শয়তানের খপ্পরে পড়ে সত্যকে না জেনে
বিভ্রান্ত হয় এবং নিজেদের সৎপথগামী মনে করে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র
কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment