বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৭ আ’রাফ –
২১ থেকে ২৫ আয়াত।]
২১) সে তাদের
উভয়ের নিকট শপথ করে বলল, আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীর একজন।
মর্মার্থঃ—শয়তানের
শপথের যে কোন মূল্য নেই তা মানুষ জানতে ও বুঝতে পারে না। তারা মিথ্যা প্রলোভন
দেখিয়ে মানুষকে সদায় বিপথগামী করতে থাকবে।
২২) এভাবে সে
তাদের প্রবঞ্চিত করল। তৎপর যখন তারা সেই বৃক্ষফলের আস্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের
লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা উদ্যানের পত্র দ্বারা নিজেদেরকে
আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের সম্বোধন করে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ
বৃক্ষ সম্বন্ধে সাবধান করিনি এবং শয়তান যে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু আমি কি
তোমাদেরকে বলিনি?
মর্মার্থঃ--- শয়তান যে জান্নাতেও আছে এই আয়াতে তা তুলে ধরা হয়েছে। আদম ও
তার সঙ্গিনীকে আল্লাহ্ মাটি দিয়ে জান্নাতেই সৃষ্টি করেন, এই আয়াত সেই কথার প্রমাণ
দেয় এবং মানুষ যে জান্নাত থেকে অভিশপ্ত হয়ে এই পৃথিবীর বুকে নেমে আসছে এটা সত্য।
২৩) তারা বলল,
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না
কর, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।
মর্মার্থঃ—অপরাধ করলে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করা ছাড়া মানুষের সে অপরাধের পাপ
থেকে মুক্তির কোন পথ নেই। তিনি ক্ষমা করতেও পারেন আবার শাস্তি দিতেও পারেন।
২৪) তিনি বললেন, তোমরা একে অন্যের শত্রুরূপে
কিছুকালের জন্য পৃথিবীতে নেমে যাও এবং (সেখানে) তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল।
মর্মার্থঃ—শয়তান ও মানুষ
উভয়ের সৃষ্টি জান্নাতে। তারা উভয়েই অভিশাপগ্রস্ত হয়ে একে অপরের শত্রু হয়ে পৃথিবীতে
নেমে আসে এবং স্রষ্টাই তাদের বসবাস ও জীবিকার ব্যবস্থা করেন।
২৫) তিনি বললেন, সেখানেই
তোমরা জীবন যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে এবং সেখান হতেই তোমাদেরকে বের
করে আনা হবে।
মর্মার্থঃ—এই পৃথিবীকে তিনি সবার
জন্যই মৃত্যুলোকে পরিণত করেন এবং মৃত্যুর
মাধ্যম দিয়ে সকলকে পবিত্র করে তুলে নেওয়ারও ব্যবস্থা করেন।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র
কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment