বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬
আন’আম—১৬১ থেকে ১৬৫ আয়াত।]
১৬১) বল, আমার প্রতিপালক আমাকে সৎ
পথে পরিচালিত করেছেন। ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শই সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম। সে ছিল একনিষ্ঠ
এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
মর্মার্থঃ--- ইব্রাহীম ছিলেন বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের অধীনের কর্মী অর্থাৎ
বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী। যারা নিজেকে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী ভাবে তারা কখনও অসৎ পথে পরিচালিত হন না, তাঁদের
প্রতিপালক তাঁদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করেন।
১৬২) বল, আমার নামায, আমার ইবাদত, আমার জীবন আমার মৃত্যু, বিশ্ব জগতের
প্রতিপালক আল্লাহ্রই উদ্দেশ্যে।
মর্মার্থঃ—নিজের কাছে কিছুই না রেখে যে সবকিছু নিজের প্রতিপালকের হাতে
সমর্পন করে সেই ধন্য।
১৬৩) তাঁর কোন শরিক নেই, এবং আমি এ সম্বন্ধেই
আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম।
মর্মার্থঃ—নিজেকেই প্রথম নিজের প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণকারী ভাবলেই
মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে যায়।
১৬৪) বল, আমি কি আল্লাহ্কে ছেড়ে অন্য প্রতিপালককে অন্বেষণ করব? অথচ তিনিই
সব কিছুর প্রতিপালক। প্রত্যেকেই নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারও ভার
বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকটেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তারপর যে
বিষয়ে তোমরা মতান্তর ঘটিয়েছিলে তা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন।
মর্মার্থঃ—কেউ কাউকে জ্ঞান দিতে পারে না ও কেউ কারও ভার বইতেও পারে না। যারা
কেবল আল্লাহ্কে খোঁজ করে তারাই সত্যের সন্ধান পায়।
১৬৫) তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি করেছেন এবং যা তিনি তোমাদেরকে
দিয়েছেন সে সম্বন্ধে পরীক্ষার উদ্দ্যেশ্যে, তোমাদের কিছুকে অপরের উপর মর্যাদায়
উন্নীত করেছেন। তোমার প্রতিপালক সত্বর শাস্তিদান করেন এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সকল মানুষকেই নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন এই
পৃথিবীতে। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময় হয়ে কেবল মানুষের প্রতি ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করে
চলেছেন। যারা এই সত্য জানে না বা স্বীকার করে না তারাই অত্যাচারীর দলভুক্ত হয়ে
শাস্তির পথে এগিয়ে যায়।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment