বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৭ আ’রাফ – ৬ থেকে ১০ আয়াত।]
৬) অতঃপর যাদের নিকট রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল
তাদেরকে, আমি জিজ্ঞাসা করবই এবং রসূলগণকেও জিজ্ঞাসা করব।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সবার সাথেই আছেন আর
যেখানে আল্লাহ্ সেখানেই তাঁর রসূল থাকবেন আলো হয়ে, আলো নিয়ে। অতএব আল্লাহ্ যখন
রসূলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন তখন মানুষ কি উত্তর দিবেন?
৭) তারপর তাদের নিকট সজ্ঞানে তাদের কার্যাবলী
বিবৃত করবই, আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।
মর্মার্থঃ—এখানে আল্লাহ্ নিজেই সাক্ষী দিয়ে
বলেছেন আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না। অর্থাৎ তিনি উপস্থিত থেকে মানুষের সব কার্যকলাপের
সাক্ষী থাকেন এবং যথাসময়ে তিনি তা বিবৃত করবেনই।
৮)
সেদিন ওজন ঠিকভাবেই করা হবে, যাদের ওজন ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে।
মর্মার্থঃ—যেদিন এই পৃথিবীতে যাতায়াতের
কাজের হিসাব মাপা হবে, সেদিন যাদের ওজন ভারী হবে সৎ কাজ করার কারণে তারাই সফলকাম
হবে সবদিক থেকে।
৯) আর যাদের ওজন হালকা হবে তারাই নিজেদের
ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করত।
মর্মার্থঃ—আর যারা অসৎ কাজ করে নিজের
আত্মাকে বার বার অপমানিত করেছে তাদের ওজন হবে হালকা, তারা যেভাবে নিজের আল্লাহ্কে
অপমানিত করেছে ঠিক সেই ভাবেই তারা এখানে লাঞ্ছিত হবে।
১০)
আমি তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও
করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ মানুষের জন্য এই
পৃথিবীকে করেছেন কর্মভূমি, জ্ঞানপীঠ ও তীর্থস্থান এবং এখানে সব কিছুর ব্যবস্থা করে
তিনি তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু খুব কম লোকই আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা
জ্ঞাপন করে এবং সত্যকে স্বীকার করে এখান থেকে ফিরে যায়।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।

No comments:
Post a Comment