বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩০১) তারিখঃ—০৩/
০৬/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করেই স্বামী
বিবেকানন্দের বাণী ঘরে ঘরে পৌঁছে দাও ঘুমন্ত ভারতবাসীকে জাগিয়ে তোলার জন্য।]
বেদযজ্ঞ করতে পুরোহিত লাগে, দেবতা লাগে। বেদযজ্ঞ
না করলে চিত্ত শুদ্ধ হয় না। চিত্ত শুদ্ধ না হলে কেউ সেবা করতে পারে না। সেবা করতে
দেবতা লাগে। পুরাতন কোটি কোটি দেবতা মৃতপ্রায়। কারো সামর্থ্য নেই শ্রদ্ধা আকর্ষণ
করবার, মরণোন্মুখ জাতিকে বাঁচাবার। স্বামীজী তখন ডাক দিয়ে শুনিয়েছিলেন নূতন বার্তা—পঞ্চাশ
বছর তোমরা ভুলে যাও তোমাদের কোটি কোটি দেবতাদের কথা, বিদায় দাও সবাইকে। কেবল মাত্র
আয়োজন কর একটি মাত্র পূজার। দেশমাতৃকা আমার জীবন্ত দেবতা। নিজেকে বিলিয়ে এই পূজায়
বলি দাও যা কিছু আছে আপনার।
আমার দেশমাতৃকা
ভৌগলিক রেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক সীমা একত্রীভূত নয়। দেশ আমার জননী। ইহার
প্রতি ধূলিকণা আমার বাল্যের ক্রীড়াভূমি, যৌবনের উপবন, বার্ধ্যক্যের বারাণসী। এই
দেশের মূর্খ, পতিত, হীনম্মন্য, উপেক্ষিত, নিপীড়িত, বিপুল জনতা, প্রত্যেকে আমার
প্রাণের ভাই, হৃৎপিণ্ডের মাংস, ধমনীর শোণিত। দেশজননী ঘুমিয়ে পড়েছেন।
সকলে বেদযজ্ঞ করে উদ্যোগী হও তাঁর মহাবোধনে। জাগিয়ে তোল প্রাণের নৈবেদ্য দানে, পশুত্বের বলিদানে।
নিজের দেবত্বশক্তি নিয়ে জেগে উঠো ও জাগিয়ে তোলো জাতিকে। পশ্চিমমুখী সভ্যতাকে
চিরতরের জন্য বিসর্জন দিয়ে পূর্বমুখী ও উত্তরমুখী সভ্যতাকে আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত
জীবন্ত বিগ্রহ রূপে প্রতিষ্ঠা করো। জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।


No comments:
Post a Comment