বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩০৫) তারিখঃ- ০৭/ ০৬/ ২০১৮ আজকের আলোচ্য
বিষয়ঃ--[ গায়ত্রী মন্ত্র দ্বারা নিজ আত্মাকে জাগ্রত করে সদায় পরমাত্মার সাথে যুক্ত
থাকো – দেখবে এই পার্থিব জগতের রাজ সম্পদও তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।]
সব
মন্ত্রই হৃদয় মন্দিরে ঘুমিয়ে থাকে তাঁকে জাগ্রত করতে হয় সাধনার মাধ্যমে। বেদে
মন্ত্রের শেষ নেই। ঈশ্বর স্বয়ং বলেছেন মন্ত্রের মধ্যে আমি গায়ত্রী। তাহলে যারা
গায়ত্রী মন্ত্রের সাধনা করেন তাঁরা তাঁরই সাধনা করেন। এই গায়ত্রী মন্ত্র খুব সহজ-
সরল সবার জন্যে। [ ওঁ ভূ ভূব স্ব তৎ সবিতু বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ। ] এই গায়ত্রী মন্ত্রের
বাংলা অর্থ হচ্ছে – যে পরমাত্মা বা সৃষ্টিকর্তা সৎ- চিদ- আনন্দ স্বরূপ বিরাজমান,
যিনি আমার মধ্যে অধিষ্ঠান থেকে জ্ঞান ও বুদ্ধি সর্বদা প্রেরিত করেন, সেই প্রসিদ্ধ
পরমাত্মার তেজের আমি ধ্যান করি বা আরাধনা করি। এই নিষ্কাম আরাধনা আর অন্য কোন
বেদের মন্ত্রে আত্মার জাগরণের জন্যে নাই—তাই ঈশ্বর স্বয়ং এই মন্ত্রে অধিষ্ঠান থেকে
সাধককে নিজের মধ্যে তিনি ধারণ করেন—সাধকও
এই মন্ত্র দ্বারা তাঁর আশ্রয়ে পরমানন্দ লোকে অধিষ্ঠান করেন। তাই সব মন্ত্রের রাজা
হচ্ছেন গায়িত্রী মন্ত্র। প্রাতঃকালে ব্রহ্মরূপা গায়ত্রী, মধ্যাহ্নে বিষ্ণুরূপা
সাবিত্রী ও সায়াহ্নে শিবরূপা সরস্বতী—এই রূপ ভাবিয়া হৃদয় মন্দিরে তাঁকে ধারণ করে
রেখে সাধনা করবে। আত্মরক্ষার্থে বার বার এই মন্ত্র স্মরণ করলে মায়ের কৃপায় সমস্ত দেবতা
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং স্বয়ং যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ তাঁর রথে সাধককে ধারণ করে
নিজে সারথি হয়ে তাকে সঠিক পথে নিয়ে যান। এই রূপ সাধক আত্মরক্ষার ব্যাপারে চিন্তিত থাকেন না। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
বেদযজ্ঞের জয়।


No comments:
Post a Comment