বিশ্বমানব
শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৮৬) তারিখঃ—৩১/ ০১/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে যাও
নির্ভয়ে সর্বসংস্কার মুক্ত হয়ে, তাহলেই বেদের রহস্য আপনা থেকেই উন্মোচিত হয়ে
অন্তরকে আলোকিত করে তুলবে।]
বর্তমান
কালের ছেলে- মেয়েরা বেদের বা ধর্মের নাম শুনলেই চমকে উঠে।তারা মনে করে, বেদ অর্থে
কঠিন সংস্কৃত ভাষায় লেখা বিশাল বিশাল পুস্তককে বুঝায়, যা সাধারণ কোন মানুষের পক্ষে
আয়ত্ত করা বা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আর ধর্ম-কর্ম করা মানেই হচ্ছে একটা গোঁড়ামির
মধ্য দিয়ে জীবন- যাপন করা। ইচ্ছা হলেও কোন ভাল-মন্দ খাবার খেতে পারবে না, উপবাস
করে থাকতে হবে, তবেই ধর্ম করা হবে, এটাই ধারণা আধুনিক ছেলে- মেয়েদের। তাই তারা
বেদের সত্যজ্ঞানের মধ্যে প্রবেশ না করে ব্রাহ্মণের উপর নিজের ধর্মকে সঁপে দিয়ে
নিজেকে মুক্ত রাখতে চায়। ফলস্বরূপ অধিকাংশ ছেলে- মেয়ে নিজের ধর্ম সম্পর্কে সজাগ নয়,
পরনির্ভরশীল হয়ে ধর্মহীন জীবন- যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। আর সমাজের ব্রাহ্মণেরাও অং
বং চং মন্ত্র শিখে বিভিন্ন পূজা করাতেই নিজের ব্রহ্মত্বের অহংকারকে আবদ্ধ রাখেন—কোন
যজমানের কাছে বেদের সত্যকে তুলে ধরেন না ও যজমানকে সত্যের পথ দেখাতেও পারেন না।
বৈদিক
যুগ ছিল সর্ব সংস্কার মুক্ত। উপবাস করে দেবতাদের উদ্দেশ্যে ভোগ নৈবদ্য নিবেদন করার
মধ্যে যেমন তাঁরা ধর্মকে বেঁধে রাখেন নি, তেমনি খাওয়া- দাওয়ার ব্যাপারটাকেও ধর্মের
অঙ্গ রূপে গ্রহণ করেন নি। আত্মাকে জানার জন্য তার জাগরণের জন্য—তার প্রকাশ-বিকাশের
জন্য মানুষের যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করাটাই ছিল সে যুগের মুনি- ঋষি থেকে শুরু করে
সকল মানুষের ধর্ম। তাঁরা জানতেন মানুষ বুদ্ধিমান জীব। তাঁর বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে
গেলে কোন বন্ধনের মধ্যে থাকলে চলবে না। তাছাড়া দেহকে যিনি ধরে রেখেছেন—সেই প্রাণ
সর্বব্যাপী অবস্থান করছেন এবং তিনি সর্বসংস্কার মুক্ত। তাই তাঁকে কোন এক ক্ষেত্রে
সংস্কারে বা মন্ত্র- তন্ত্রে ধরে রাখা যায়না। সেজন্য যে যুগের বেদের সনাতন ধর্ম
ছিল সার্বজনীন ধর্ম- যা সকলেই আচরণ করতে পারতো স্বাধীনভাবে। এই বেদের জ্ঞানের
চিন্তাধারায় সে যুগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন রূপ নিয়ে। জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment