Wednesday, 10 January 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ১৬৫ তাং ১০/ ০১/ ২০১৮

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৬৫) তারিখঃ—১০/ ০১/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ ঈশ্বর তাদেরকেই  সাহায্য করেন যারা  বেদযজ্ঞ করে নিজেরা সর্বদা সজাগ ও ক্রিয়াশীল।]
ঈশ্বর ভিখারী- অলস- মিথ্যাবাদী, কদাচারী- অনাচারী- পাপাচারী, তঞ্চক ও অন্যায়কারীদের পাশে থাকেন না। ঈশ্বরের শক্তির নাম বিষ্ণুশক্তি। এই শক্তি এই বিশ্বসংসারের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন। তিনিই এই বিশ্বসংসারের সৃষ্টিকর্ত্তা, তাই তাঁর এই সংসারের সৌন্দর্যতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। কেউ তাঁর সংসারে অন্যায় কাজ- কর্ম করে বিশ্বসংসারের সৌন্দর্য ও বৈভবশালীনতাকে বিনষ্ট করবে নিজ স্বার্থে এ তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। এক জোড়া স্ত্রী- পুরুষ জীবনকালে ১৬- ২০টি বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। এই অতিবৃদ্ধি যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই অতি ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভিখারী- অলস-মিথ্যাবাদী- অনাচারী- পাপাচারী- তঞ্চক ও অন্যায়কারীদের দলভুক্ত হবে। যখনি এই বিশ্বসংসারে সমতা শক্তিকে ছাপিয়ে বিষম আকার ধারণ করে তখনি এই পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য বিষ্ণু শক্তির আবির্ভাব ঘটে। দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, মহামারী,যুদ্ধ ইত্যাদি কোন না কোন দৈবী প্রকোপ দ্বারা প্রকৃতি প্রাণীদের সংযোজনন শক্তি থেকে উৎপন্ন এই বিপদ থেকে সংসারকে রক্ষা করে আসছেন যুগ যুগ ধরে। তাই যারা বেদযজ্ঞ করে যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্মকে রক্ষা করে আসছেন, তাঁরা জানেন রাত্রির অন্ধকার একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত গভীর হয়। তারপর ধীরে ধীরে আবার দিনের আলো প্রস্ফুটিত হতে থাকে। মধ্যাহ্ন পর্যন্ত সূর্যের তেজ বাড়তে থাকে, তারপর আস্তে আস্তে কমতে থাকে। সমুদ্রে জোয়ার আসে, কিছু পরে ভাঁটা হয়। চাঁদ কমতে কমতে ক্ষীণ হয়, তারপর আবার বাড়তে থাকে। গরমের পর ঠাণ্ডা, ঠাণ্ডার পর আবার গরম আসে। মৃত্যুর পর জন্ম ও জন্মের পরে আবার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি। সৃষ্টির সৌন্দর্য এই ভাবেই বজায় আছে এবং তার ভারসাম্য নষ্ট হয় না এই বিষ্ণু শক্তির বলে। যারা এই সত্য জেনে বেদযজ্ঞ করে চলেন তাঁরাই বৈষ্ণব – তাঁরাই শাক্ত—তাঁরাই ভক্ত—তাঁরাই ঈশ্বরের পার্ষদ। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment