বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৮১) তারিখঃ—২৬/
০১/ ২০১৮
আজকের
আলোচ্য বিষয়ঃ- [ বেদযজ্ঞ করে কামনা- বাসনার কবল থেকে মুক্ত হয়ে যৌথ পরিবারের
সোনালী সূত্রকে ধারণ করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে বেদ বা জ্ঞানের আলোকে আলোকিত
করো।]
বেদে আমরা সকলেই পড়েছি; ব্রহ্মচর্য্য,
গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস এই চার
আশ্রমে ভাগ করা হতো মানব জীবনকে দুঃখের হাত থেকে মুক্ত করে জীবনকে অমৃতময়
করে গড়ে তোলার জন্য। ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম হচ্ছে শিক্ষার কাল; এই আশ্রমে বা বয়সে
মানুষকে জ্ঞান লাভ করে জানতে হবে যে; “ আমি এক ব্রহ্মের অধীনে রয়েছি, মানবাত্মা
হয়ে, কেবল তাঁর অধীনে থেকে সৎ কর্ম করার জন্য। এই কর্ম ছাড়া মানবাত্মার দ্বিতীয়
কোন ধর্ম নেই”। এই সত্য অন্তরে ধারণ করেই মানবাত্মাকে সংসার ধর্ম বা গার্হ্যস্থ্য
জীবনে যেতে হয়। গার্হ্যস্থ্য জীবনে যিনি পরিবারের কর্তা তাঁকেই মান্য করে চলতে হয়,
তিনি যতদিন না বানপ্রস্থ গ্রহণ করছেন। বেদের যুগে রাজা প্রজা সকলেই এই বানপ্রস্থ
ধারণ করতেন যৌথ পরিবারের সুন্দর সুরক্ষার ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে। পরিবারের বড়
সন্তান যদি ছোট ভাই- বোনদের সকলকে পরিবার সঞ্চালনের কাজে সম্মিলিত করতে প্রস্তুত
থাকে, তাহলে আজ প্রতিটি পরিবারে যে ধরণের সঙ্কীর্ণ স্বার্থপরতা ছেয়ে গেছে, সেই
পরিস্থিতি আর দেখা দেবে না। আজকের দিনে যে কোন মানুষ উপার্জন করতে আরম্ভ করলেই
স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে যায়। তখন সে তার স্ত্রী পুত্র নিয়ে আলাদা থাকতেই বেশী পছন্দ
করে। যা কিছু উপার্জন সবই স্ত্রী পুত্রের সুখ সুবিধার উদ্দেশ্যে খরচ করে। বাবা,
মা, ভাই, বোন কারো কথাই ভাববার প্রয়োজন মনে করে না। এক্ষেত্রে স্বামী- স্ত্রী
উভয়ের সত্যজ্ঞান বা বেদজ্ঞানের অভাব দেখা যায়। তাই বেদের আশ্রমিক এই চার শিক্ষা মানুষের জীবনে খুবই
ফলদায়ক। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment