বিশ্বমানব
শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৬৮) তারিখঃ—১৩/ ০১/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করলেই
মানুষের অন্তর থেকে ধীরে ধীরে মিথ্যাজ্ঞান, মোঘজ্ঞান বা ব্যর্থজ্ঞান দূর হয়ে যায়
এবং অন্তর-বেদ খুলে যায়।]
স্বামী
বিবেকানন্দ বলেছেন; “ তোমাকে ক্রমশঃ ভিতর হইতে বাহিরের দিকে বিকশিত হইতে হইবে, ইহা
তোমাকে কেহই শিখাইতে পারে না।---- তোমার নিজের অন্তরাত্মা ভিন্ন দ্বিতীয় কোন
শিক্ষক নাই। যাহার হৃদয়-বেদ খুলিয়া গিয়াছে, তাহার কোন গ্রন্থের প্রয়োজন হয় না।
গ্রন্থের একমাত্র কাজ হইল অন্তরে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা। গ্রন্থগুলো তো অন্যের
অভিজ্ঞতা মাত্র”। তাই জ্ঞান না থাকিলে মানুষের যত না ক্ষতি হয়, তার থেকে বেশী
ক্ষতি হয় মিথ্যাজ্ঞানের ভাণ্ডার অন্তরে গড়ে উঠলে। এই বিশ্বে মানব সমাজে
মিথ্যাজ্ঞানের বোঝা নিয়ে একদল মানুষ বিশাল সংগঠন গড়ে তুলেছেন মানুষকে স্বর্গ-
নরকের ভয় দেখিয়ে। এই সব মানুষের অন্তরে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বিষয় চিন্তা
কাজ করে। এদের লালসার তৃপ্তি নেই। তাদের জীবন কেবল কামভোগার্থে এগিয়ে চলে। তাই
যেকোন অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন করতে বিন্দুমাত্র তাদের বিবেককে লাগে না। কেবল
অসদুপায় বললেই যথেষ্ট হয় না। নৃশংস উপায়ে উগ্রমুর্ত্তি ধরে কামলালসার চরিতার্থতায়
তারা সর্বদায় তৎপর থাকে। এই শ্রেণির মানুষ সনাতন ধর্মকেও বিশ্বাস করে না, তাই তারা
সত্যেরও নিন্দাকারী। সজ্জনদের নিন্দা করা ইহাদের প্রকৃতিগত স্বভাব হয়ে যায়, পরিবেশ
ও পরিস্থিতির কবলে পড়ে। অহংকার এদের ধর্মে এত বড় আকার ধারণ করে যে, এরা নিজেদের জগত
ছাড়া আর কিছুই যে ভাল থাকতে পারে তা অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে পারে না। এই
মিথ্যাজ্ঞান কেবল তাদের ক্ষতি করে না, এই জ্ঞান মানব সমাজকে দিশেহারা করে তোলে।
তাই গীতাতে ঈশ্বর বলেছেন—এই শ্রেণির মানুষ জীবকে হিংসা করে, সকল মানুষকে বিদ্বেষ
করে, আমাকেও বিদ্বেষ করে, কারণ আমি তো সকল দেহেই আছি, তার দেহেও আছি।(মামাত্মপরদেহেষু,১৬।১৮)।
আমি আলো—যে আলোকে বিদ্বেষ করে, সে তো অন্ধকারেই থাকিবে—নরকে পচিবে--- কিভাবে সে
নিজের অন্তরে বেদযজ্ঞের আলোর শিখা দেখিবে? জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment