Tuesday, 23 January 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ১৭৮ তাং ২৩/ ০১/ ২০১৮

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৭৮) তারিখঃ—২৩/ ০১/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিটি মানুষ বেদযজ্ঞের মাধ্যমে দু’বার করে সঞ্চয় ও উপভোগের সুযোগ পায়।]
মানুষের শৈশব থেকে কৈশোরকাল  ও বার্দ্ধক্যকাল, এই দুটি হল সঞ্চয়ের সময় আর যৌবন ও পরলোক এই দুটি হচ্ছে উপভোগ করার সময়। যারা শৈশব থেকে কৈশোরকাল অবধি শাস্ত্রমতে সৎ পথে স্থির থেকে সুস্থ সবল নাগরিক হয়ে ওঠার জন্য তপস্যা করে, তারাই যৌবনে সেই তপস্যার সুফল ভোগ করতে পারে। তাই যাদের পিতা- মাতা নিজের সন্তানদের যৌবনকাল সুখ শান্তিতে দেখার আশা করে, তাদেরকে সেইভাবে মানুষ করার জন্য, তাদেরকে সেই প্রস্তুতির জন্য তপস্যা করার পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে হয়। বাল্যকাল থেকে কৈশরকালের শারীরিক ও বৌদ্ধিক উন্নতি সাধনের উপরেই মানুষের যৌবনকালের সুখ- শান্তির ভোগ নির্ভর করে। এই দৃশ্য যৌবনের ন্যায় আরও এক অদৃশ্য যৌবনও থাকে। স্থুল দেহের সুখভোগের তুলনায় সুক্ষ্মদেহের সুখভোগ আরও বেশী আনন্দদায়ক। এই সুক্ষ্মদেহের শক্তি ও মাহাত্ম্য অনেকগুণ বেশী। স্থুল শরীরের তুলনায় সুক্ষ্মশরীর অত্যধিক সামর্থবান ও স্থায়িত্বকাল অনেক বেশী। শারীরিক শক্তির তুলনায় বুদ্ধিবলের উপযোগিতা যেমন অনেকগুণ বেশী তেমনি দৃশ্য জীবনের তুলনায় মরণোত্তর জীবনের মহত্ত্বও অনেকগুণ বেশী। তাই বেদযজ্ঞ করে যে যেমন জীবনে সঞ্চয় করবে সে তেমনিই ভোগ করতে পারবে। নিজ নিজ জ্ঞান- বুদ্ধি- বিবেকের উপরই মানুষের ইহকালের ও পরকালের সুখ- সম্পদ ভোগ নির্ভর করে—এই সূত্র অনন্তকাল ধরে জীবের উপর প্রয়োগ হয়ে আসছে এবং জীব নিজ নিজ কর্মফল অনুযায়ী বিভিন্নলোকে যাতায়াত করে কর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment