Tuesday, 30 January 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ১৮৫ তাং ৩০/ ০১/ ২০১৮

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৮৫) তারিখঃ—৩০/ ০১/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ জ্ঞানের আসনে বসে বেদযজ্ঞ করে দৈবীসম্পদের অধিকারী হবার পর সংসারে প্রবেশ করবে এবং দেবশিশুর জন্ম দিয়ে সংসারকে বেদের আলোতে আলোকিত করে রাখবে।]
মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হয়েও নিজের শক্তির প্রকাশ- বিকাশ ঘটাতে চায় না। এর প্রধান কারণ হল, সে অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে থেকে মানসিক দাস হয়ে থাকতে জন্ম থেকেই অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। পিতা- মাতা অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে থেকে মানসিক দাস হয়ে সমস্ত শক্তি ও গুণের প্রকাশ- বিকাশ না ঘটিয়ে অপুষ্ট শক্তির দ্বারা সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। এই অবস্থায় পিতা- মাতা যেমন নিজের জন্ম রহস্য জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল এবং এক অজ্ঞানের অন্ধকার কুপে আবদ্ধ হয়ে জ্ঞানের শুভ্র জ্যোতির্ময় রূপ থেকে বঞ্চিত হয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছিল—সেই ধারাকে বজায় রেখে তার সন্তান- সন্ততিও তাদের সন্তানের জন্ম দিয়ে চলেছে। তাই তারা বেদের সিদ্ধপীঠের সিদ্ধাসনে বসে বেদযজ্ঞ করে নিজ আত্মার সৎ- সত্য- সুন্দর ও জ্যোতির্ময় রূপ দেখার কথা কল্পনাও করতে পারছে না।
আর যে পিতা- মাতা নিজের জন্ম রহস্য জেনে, সমস্ত অজ্ঞানকে দূরীভূত করে দৈবীসম্পদের অধিকারী হয়ে জ্ঞানের শুভ্র আলোকে আলোকিত হবার পর সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকে, তাদের সন্তান কোনদিন অজ্ঞানের অন্ধকার কুপে আবদ্ধ হতে পারে না। তাদের দেহে প্রতিটি কোষ-ই উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বরূপ হয়ে উঠে বেদের আলোকে। সেই উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় জীব কোষের আবির্ভাব মাতৃগর্ভে হবার সাথে সাথে সে অর্জন করবে পিতৃ- মাতৃ জ্ঞান। সেই সন্তান পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়ে কোন অজ্ঞানের অন্ধকারে নিজেকে নিমজ্জিত করতে পারে না। এরাই হলো এই ধরণীর বুকে দেবশিশু।
ভারতবর্ষের যোগী- মুনি- ঋষিরা সংসারের মধ্যে থেকে এই সন্তান রহস্য ও জন্ম রহস্যকে ভালভাবে আয়ত্তে এনেছিলেন। তাই তাঁরা সংসারে থেকেও হয়েছিলেন বিশ্বজয়ী ও বিশ্বপিতা। তাঁরা যেমন কোন অজ্ঞানের অন্ধকারে নিজেদের আবদ্ধ রাখতেন না, তাঁদেরকে ঘিরে যারা অবস্থান করতেন তাঁরাও কোন অন্ধকারে নিমজ্জিত হতেন না। তাঁদের ঔরসজাত সন্তান জন্ম থেকেই সমস্ত অজ্ঞান থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার শক্তি অর্জন করার চেষ্টায় রত থাকতেন। তাঁরা এই রহস্যকে জেনে নিজেকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর রূপেও প্রকাশ করতেন। তাঁদের প্রতিটি বাক বা কথা হয়ে উঠতো বেদবাক্য ও অগ্নির শিখার ন্যায় উজ্জ্বল।
কিন্তু সে যুগের থেকেও আজ মানুষ নিজেকে সু-সভ্য ও বুদ্ধিমান মনে করেন। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে আজ মানুষ অনেকে এগিয়ে গিয়েছেন। তা সত্ত্বেও কেনো মানুষ আজ শান্তিতে পৃথিবীর বুকে থাকতে পারছেন না? এ ব্যাপারে গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে—মানুষ নিজের বুদ্ধি দিয়ে নিজের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ একের পর এক আবিষ্কার করে চলেছেন কিন্তু সেই বুদ্ধি দিয়ে নিজ আত্মাকে আবিষ্কার করার দিকে কিছুতেই এগিয়ে যাচ্ছেন না। পরমাত্মার বন্ধু আত্মা এবং আত্মার বন্ধু পুত্র, সেই পুত্র দেবশিশু হয়ে না জন্মালে কিভাবে সে নিজেকে পরমাত্মার বন্ধু ভাববে? জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।  

No comments:

Post a Comment