Sunday, 5 November 2017

Gita 9th chapter 11 to 15 sloke

[ গীতা জ্ঞানীদের অস্ত্র। এই অস্ত্রের উপর ভর করে জ্ঞানী কর্ম্ম করেন লোক- সংগ্রহের জন্য। আর যারা গীতার জ্ঞানকে মান্যতা না দিয়ে কর্ম্ম করেন তাঁরা মূর্খ। তাঁদের কর্ম্ম দ্বারা লোক- সংঘট্ট বাড়ে। সংঘট্ট ক্ষুদ্র, বিশিষ্ট ও অনৃত। সংগ্রহ ব্যাপক, সুসম্বন্ধ ও ‘ঋতম’। খণ্ডের মধ্যে অখণ্ড দর্শনই প্রকৃত জ্ঞান। ইহাই জ্ঞানীর লোক- সংগ্রহ বা লোকশিক্ষার জন্য কর্ম্ম। গীতার ভাষায় বিভক্তের মধ্যে অভিভক্ত দর্শন করেন জ্ঞানীরা। মূর্খ ব্যক্তিগণ কেবল লোক- সংঘট্ট বাড়াবার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অবজ্ঞা করে আসুরিক শক্তির সংগঠন করে চলে এবং মানুষকে পথভ্রষ্ট করে নিজের দল- সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ায়। গীতা কোন দল- সম্প্রদায়- গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেননি। গীতা হলো সাত্ত্বিকী মহাত্মাগণের প্রাণস্বরূপ, ভারতাত্মার প্রাণস্বরূপ। গীতাই হলো ভারতের সংবিধান। গীতাকে আশ্রয় করেই সনাতন ধর্ম্মকে রক্ষা করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডকে এক সূত্রে গেঁথে রেখে পরিচালনা করছেন। আজকে শ্রীগীতার রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগঃ অধ্যায়ের ১১ থেকে ১৫ মন্ত্র সকলের উচ্চারণের জন্য প্রদত্ত হল।]
১১) মূর্খ ব্যক্তিগণ নরদেহধারী আমাকে অবজ্ঞা করে। তারা আমার তত্ত্ব জানে না এবং আমি যে সমস্ত ভূতের অধীশ্বর, ইহাও বুঝে না।
১২) ঈশ্বরের প্রতি অবজ্ঞা বশতঃ তাদের আশা কখনো পূর্ণ হয় না। তাদের সকল কার্য্যই নিষ্ফল, জ্ঞানও ব্যর্থ এবং চিত্তও বিক্ষিপ্ত। এই সকল ব্যক্তি বুদ্ধিভ্রংশকারী তামসিক ও রাজসিক প্রকৃতির বশীভূত এবং বিবেকহীন।
১৩) হে অর্জ্জুন, সাত্ত্বিকী প্রকৃতিপ্রাপ্ত মহাত্মগণ আমাকে সর্ব্বভূতের কারণ মনে করেন এবং অব্যয়স্বরূপ জেনে অনন্যচিত্তে আমার ভজনা করেন।
১৪) তাঁরা সর্ব্বদা আমার নাম কীর্তন করেন, আমাকে পাবার জন্য দৃঢ়ভাবে যত্ন করেন, ভক্তি সহকারে আমাকে প্রণাম করেন এবং সর্ব্বদা যোগযুক্ত হয়ে আমার উপাসনা করেন।
১৫) কেহ কেহ জ্ঞানস্বরূপ যজ্ঞ দ্বারা আমাকে ভজনা করেন, কেহ কেহ নিজেদের সহিত অভেদ জ্ঞানে আমাকে আরাধনা করেন, কেহ কেহ দ্বৈত বুদ্ধিতে নিজদিগকে দাসরূপে পৃথক জ্ঞান করে আমার উপাসনা করেন, আবার কেহ বা বহু দেবতারূপে বহুভাবে আমাকে আরাধনা করেন।
[ জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতামায়ের জয়।]

No comments:

Post a Comment