Saturday, 25 November 2017

গীতা গুণত্রয় বিভাগযোগঃ ১২ থেকে ২১ শ্লোক

[ গীতার জ্ঞান হলো নিরাময় সুখ—সাদা ধবধবে, প্রকাশকত্ব ও সুখময়ত্ব। প্রকাশকত্বকে ঢেকে দেয় তমঃ, আর সুখময়ত্বকে অন্যরূপে রাঙিয়ে দেয় রজঃ গুণ। শ্রীগীতা সত্ত্বঃ রজঃ তমঃ গুণের ঊর্ধ্বে থেকে এই তিন গুণকে বাতিল করে মানুষকে এক আনন্দময় জগতে ধরে রাখেন। সাম্য অবস্থার ভূমিতে থেকে অন্তর রাজত্বের মহাযুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য দান একমাত্র গীতার জ্ঞান মানুষকে দিয়ে থাকেন। গীতার গুণত্রয়বিভাগযোগে সাতাশটি মন্ত্র আছে। গতকাল আমরা ১১টি মন্ত্র উচ্চারিত করেছি, আজকে ১২ থেকে ২১ পর্যন্ত মন্ত্র উচ্চারণ করবো এবং ত্রিগুণের বোধে গিয়ে আমরা ত্রিগুণাতীত হয়ে এই জগত সংসারে থাকার মহাসংগ্রামে ব্রতী হবো।]
১২) হে ভারতকুলশ্রেষ্ঠ, যখন রজোগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন লোভ, সর্ব্বদা কর্ম্মে প্রবৃত্তি, সমস্ত কর্ম্মে উদ্যম, শান্তি ও তৃপ্তির অভাব এবং বিষয়স্পৃহা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়।
১৩) হে কুরুনন্দন, যখন তমোগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন স্মৃতিভ্রংশ, কর্ত্তব্যে আলস্য, অসাবধানতা এবং মোহ এই সকল লক্ষণ জন্মায়।
১৪) যখন সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন জীবের মৃত্যু হলে তিনি তত্ত্ববিদগণের প্রাপ্য প্রকাশময় অমলিন লোকে গমন করেন।
১৫) যখন রজোগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন জীবের মৃত্যু হলে কর্মাসক্ত মনুষ্যযোনিতে তাঁর জন্ম হয়, আর তমোগুণ যখন বৃদ্ধি পায় তখন মৃত্যু হলে তিনি পশুপক্ষীদের মূঢ়যোনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
১৬) সাত্ত্বিক পুণ্যকর্ম্মের ফল নির্ম্মল সুখ, রাজসিক কর্ম্মের ফল দুঃখ এবং তামসিক কর্ম্মের ফল অজ্ঞানতা—পণ্ডিতগণ এই কথা বলেছেন।
১৭) সত্ত্বগুণ থেকে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, রজোগুণ থেকে লাভ জন্মে এবং তমোগুণ থেকে উৎপন্ন হয় জীবের অসাবধানতা, মোহ এবং অজ্ঞানতা।
১৮) সত্ত্বগুণপ্রধান ব্যক্তি স্বর্গাদি লোকে গমন করেন, রজোগুণ প্রধান ব্যক্তিগণ মনুষ্য লোকে অবস্থান করেন এবং তমোগুণসম্পন্ন ব্যক্তি জঘন্য প্রকৃতির বশে নরকগামী হন।
১৯) যিনি সকল কর্ম্মব্যাপারে গুণকেই কর্ত্তা বলে জানেন আর আত্মাকে গুণের অতীত বলে জানেন, তিনিই আমার ভাব পেয়ে থাকেন।
২০) জীব যদি দেহোৎপত্তির কারণ- স্বরূপ এই তিনটি গুণ অতিক্রম করতে পারেন, তবে জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়ে তিনি পরমানন্দ লাভ করেন।
২১) অর্জ্জুন বললেন—প্রভু , কি কি লক্ষণ দ্বারা জানা যায় যে জীব ত্রিগুণ অতিক্রম করেছেন? তাঁর আচরণ কিরূপ এবং কি প্রকারে তিনি এই তিন গুণ অতিক্রম করেন?
[ জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের গীতার জয়।]

No comments:

Post a Comment