[ গীতার রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগঃ জ্ঞান-
বিজ্ঞানের অতি গূঢ় কথার আলোচলা। এই আলোচনার কথা জানলে মানুষ সংসারবন্ধন থেকে মক্ত
হয়ে যায়। ঈশ্বর অব্যক্ত স্বরূপে সমগ্র জগৎ ব্যাপিয়া আছেন। যখন তিনি ব্যক্ত, তখনই
তিনি অব্যক্ত। সুতরাং তাঁর দুটি মুর্ত্তি। একটি অব্যক্ত, অপরটি ব্যক্ত। অব্যক্ত- স্বরূপে তিনি নির্গুণ। ব্যক্ত স্বরূপে তিনি নির্গুণ- গুণী। অব্যক্ত-
স্বরূপে তিনি নির্বিবশেষ, ব্যক্ত- স্বরূপে তিনি নির্ব্বিশেষ- সবিশেষ। অব্যক্ত-
স্বরূপে তিনি নিরাকার, ব্যক্ত- স্বরূপে তিনি নিরাকার- সাকার বা চিদাকার। অব্যক্ত-
স্বরূপে তিনি পরা ও অপরা প্রকৃতি—বহিরঙ্গা ও তটস্থা শক্তি—জগৎ ও জীব। ব্যক্ত-
স্বরূপে তিনি শক্তিমান, পুরুষ, পুরুষোত্তম,আনন্দরসের ঘনীভূত- বিগ্রহ। রাজবিদ্যা-
রাজগুহ্যযোগঃ অধ্যায়ে ৩৪ টি মন্ত্র আছে, আজকে তার মধ্যে ১ থেকে ১০ টি মন্ত্র সবার
উচ্চারণের জন্য প্রদত্ত হলো।]
১) শ্রীভগবান বললেন—তুমি সর্ব্বদ্বেষশূন্য
বলে তোমাকে এই জ্ঞান- বিজ্ঞানের অতি গূঢ় কথা বলবো। ইহা জানলে তুমি সংসারবন্ধন থেকে
মুক্ত হবে।
২) এই বিদ্যা সমস্ত
বিদ্যার রাজা এবং সমস্ত গোপনীয় তত্ত্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইহা অতি পবিত্র ও উত্তম।
ইহা প্রত্যক্ষ ফলপ্রদ, ধর্ম্মসম্মত, সুখসাধ্য ও অবিনশ্বর।
৩) হে মহাবীর
অর্জ্জুন, যারা এই অধ্যাত্মবিদ্যায় বিশ্বাসহীন, তারা আমাকে না পেয়ে মৃত্যুময়
সংসারপথে আবার ফিরে আসে।
৪) আমার স্বরূপ
ইন্দ্রিয়ের অগোচর। আমা দ্বারা সমস্ত জগৎ ব্যাপ্ত হয়ে আছে, আমাতে সর্ব্বভূত
অবস্থিত, আমি কিন্তু এই জগৎপ্রপঞ্চে অবস্থিত নহি।
৫) তুমি আমার
ঐশ্বরিক যোগ শক্তি দর্শন কর। এই প্রাণি- জগৎ আমাতে পারমার্থিকভাবে অবস্থিত নহে।
কারণ আমি সর্ব্বসঙ্গবর্জিত পরমাত্মা। আমি সর্ব্বভূতের ধারক ও পালক অথচ আমি ভূতগণের
মধ্যে অবস্থিত নহি।
৬) যেরূপ আকাশস্থিত
মহান বায়ু অসঙ্গ অবস্থায় সর্ব্বত্র গমনশীল, সেইরূপ সর্ব্বভুত আমাকে স্পর্শ না করেও
আমাতে অবস্থিত আছে জেনো।
৭) হে অর্জ্জুন,
প্রলয় কালে সর্ব্বভূত আমার প্রকৃতিতে লয় প্রাপ্ত হয়। সৃষ্টিকালে আমি আবার তাদের
সৃষ্টি করি।
৮) স্বীয়
অবিদ্যারূপ মায়াকে বশীভূত করে নিজ প্রকৃতি বশে জন্ম- মৃত্যু পরবশ ভূতগণকে আমি
পুনঃপুনঃ সৃষ্টি করি।
৯) অথচ হে ধনঞ্জয়,
আমি সকল কর্ম্মে উদাসীন ও অনাসক্ত। ফলে ঐ কর্ম্মসকল আমাকে আবদ্ধ করতে পারে না।
১০) হে কৌন্তেয়,
আমার অধিষ্ঠানবশতঃই প্রকৃতি স্থাবর- জঙ্গমাত্মক বিশ্বের সৃষ্টি করে থাকে আমারই
প্রেরণায়—সেইজন্য এই জগৎ বার বার সৃষ্ট ও লয় প্রাপ্ত হয়।
[ জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয় শ্রীভগবান
শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতা মায়ের জয়।]

No comments:
Post a Comment