[ শ্রীগীতা মানুষের কাছে দর্পণ স্বরূপ।
দর্পণে যেমন মানুষ নিজের চেহারা দেখতে পায় এবং নিজের সাজ-পোশাক রুচি সম্মত হলো
কিনা তা পরখ করে নিতে পারে, তেমনি গীতাপাঠ করে যেকোন মানুষ নিজের রুচিমতো জীবনকে
গড়ে তোলার জ্ঞান লাভ করতে পারে। কোন পোশাক পড়ে কোথায় যেতে হবে সেই জ্ঞান গীতা থেকে
মানুষ অতি সহজেই লাভ করে থাকে এবং সেই পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে আগেই দর্পণে
নিজের রূপ দেখতে সক্ষম হয়। এই ব্রহ্মাণ্ডে কত লোক আছে জীবের বাস করার জন্য তা
আমাদের অজানা, কারণ এই পার্থিব দেহ নিয়ে আমরা সরাসরি সেই সব লোকে যেতে সক্ষম নই। তবে
সুক্ষদেহে জ্ঞানের পোশাক পড়ে আমরা সে সব লোক ভ্রমণ করতে সক্ষম। আমরা দেহত্যাগ করে
কে কোথায় থাকবো, তা জেনে নিতে পারলে আমাদের স্বাভাবিক ভাবে এই জগতের প্রতি মোহ কমে
যাবে। আজকে অক্ষরব্রহ্মযোগের ২২ থেকে ২৮ মন্ত্র আমরা উচ্চারণ করে সেই সত্য জানতে
সক্ষম হবো।]
২২) হে পার্থ, সর্ব্বভূত যাতে অধিষ্ঠিত, যিনি সমস্ত জগৎ জুড়ে আছেন, সেই পরম
পুরুষকে একমাত্র অনন্যা ভক্তি দ্বারাই লাভ করা যায়।
২৩) হে ভরতকুলশ্রেষ্ঠ যে সময় দেহত্যাগ করলে যোগীদের পুনর্জন্ম হয় না, এবং
যে সময় দেহত্যাগ করলে পুনর্জন্ম হয়, আমি সেকালের কথা বলছি।
২৪) অগ্নি, জ্যোতি, দিন, শুক্লপক্ষ, উত্তরায়ণের ছয়মাস—এই সময় মৃত্যু হলে
ব্রহ্মজ্ঞানীগণ ব্রহ্মকে পেয়ে থাকেন।
২৫) ধূম রাত্রি, কৃষ্ণপক্ষ ও দক্ষিণায়নের ছয়মাস—এই সময় মৃত্যু হলে যোগী
চন্দ্রলোক গমন করেন এবং কর্ম্মক্ষয়ে পুনরায় সংসারে জন্ম নেন।
২৬) শুক্ল ও কৃষ্ণ এই দুইটি পক্ষ জগতে অনাদি বলে প্রসিদ্ধ। ইহাদের একটি
দ্বারা মোক্ষ লাভ করা যায় অপরটি দ্বারা পুনর্জন্ম ঘটে।
২৭) হে পার্থ, এই দুই গতির কথা জানলে জীব মোহগ্রস্ত হন না। অতএব হে
অর্জ্জুন, সর্ব্বদা যোগযুক্ত হও।
২৮) ইহা জানলে সকল বেদে, যজ্ঞে, তপস্যায় ও দানে যে সমস্ত পুণ্য ফলের কথা উপদেশ
করা হয়েছে যোগী সেই ফল অতিক্রম করেন এবং সেই আদ্য অর্থাৎ সকলের মূল স্বরূপ পরম
পুরুষকে প্রাপ্ত হন।
[ ইতি অক্ষরব্রহ্মযোগ( তারকব্রহ্মযোগ) নামক অষ্টম অধ্যায়।]

No comments:
Post a Comment