Monday, 10 April 2017

বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ-- ১০/ ০৪/ ২০১৭

বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ—১০/ ০৪/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত জ্ঞান, তাঁরই ধ্যান করে যত বেদ যজ্ঞে চিত্ত সমাহিত করবে ততই অন্তঃকরণের মালিন্য ও অনাত্ম চিন্তা দূরীভূত হবে।]
বেদ যজ্ঞ করে যত জ্ঞানীর সংসর্গ লাভ করবে ততই দিনে দিনে জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। বেদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জ্ঞান অনন্ত, বেদ যজ্ঞ করে তাঁর সান্নিধ্যে যারা থাকেন তাঁদের জ্ঞানও পবিত্র সাগরের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তাঁরই পাদপদ্মের ধ্যান- চিন্তন- মনন করে বেদ যজ্ঞ শুরু করে দিলেই তিনি বেদযজ্ঞকারীকে নিজের বুকে টেনে নেন এবং তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন লীলা শুরু করে দেন। একাগ্রচিত্তে বেদ যজ্ঞ করে অন্তঃকরণের মালিন্য ও অনাত্ম চিন্তাকে চিরতরের জন্য দূরীভূত করতে হবে, তাহলেই তাঁর অনন্য প্রেমে পরিপূর্ণ চিত্ত লাভ করে তাঁর পরমপদ আলিঙ্গন করা জীবের পক্ষে সহজ হয়ে যাবে। পরমপদাভীষ্ট ব্যক্তিদের অন্য কারো কটু  বাক্যে বিচলিত হওয়া উচিত নয় ও তার প্রতিকাররূপে কারো অপমান করাও ঠিক নয়। এই ক্ষণভঙ্গুর দেহে “ অহং ও মমত্ব” ভাব আরোপ করে কোনো প্রাণির বৈরাচরণ করাও ঠিক নয়। কেবল তাঁকেই পুনঃ পুনঃ প্রণাম জানিয়ে তাঁরই পাদপদ্মের ধ্যান করে বেদ যজ্ঞ শুরু করার প্রয়াস অব্যাহত রাখা এবং তাঁকেই পুনঃ পুনঃ প্রণাম জানিয়ে এই সর্বকল্যাণময় বেদযজ্ঞের পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া মানুষের আর দ্বিতীয় কোনো কর্ম থাকতে পারে না। এই বেদ যজ্ঞের প্রভাবেই মানুষ মনোবৃত্তিসকল নিরোধে সফল হয় এবং অনাহত নাদের অনুভূতি লাভ করতে সক্ষম হয়। এই অনাহত নাদের উপাসনা আলাদাভাবে বেদযজ্ঞকারীকে করতে হয় না। বেদ যজ্ঞ করার ফলেই মানুষের বা জীবের মুলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মুনিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ, আজ্ঞা ও সহস্রার চক্রের দুয়ার খুলে যায়। তখন এর প্রভাবে মানুষের অন্তঃকরণের দ্রব্য( অধিভুত), ক্রিয়া( অধ্যাত্ম) এবং কারক( অধিদৈব) রূপ মল বিনষ্ট হয়ে যায় ও বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ লাভ করে পরমগতিরূপ মোক্ষ লাভ করে থাকেন। এর ফলে জীবকে আর জন্ম- মৃত্যুরূপ সংসার চক্রে আর আবর্তিত হতে হয় না। জয় বেদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।

No comments:

Post a Comment