বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ—১৬/ ০১/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা*
মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদ যজ্ঞ করে মহাসত্যের প্রকাশ ঘটাও, তাহলেই বেদভুমি
থেকে মিথ্যা- বেনোজল যা প্রবেশ করেছিল তা বের হয়ে যাবে।]
হিন্দুরা এই বেদভুমিতে বেদযজ্ঞ করতে ভুলে
যাবার জন্যই বিভিন্ন ধর্মমত সাধুবেশে ডাকাত হয়ে এই স্বর্গভূমিতে প্রবেশ করে। যারা
ধর্মের মঞ্চ সৃষ্টি করে ডাকাতি – রাহাজানি করে তাদের ধর্মীয় ব্যবসার উন্নতি
তরতরিয়ে হয়। আর যারা সত্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে ধর্মের প্রচার করে তাদের দল থেকে
মানুষ সরে পড়ে। ডাকাতি করে মানুষকে হত্যা করা এবং মানুষের সম্পদ লুট করে নেওয়াকে
যারা জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধ বলে প্রচার করে, তাদের দলেই মানুষের ভিড় হবে স্বাভাবিক নিয়মে এই কথা সেই সব ধর্মীয় নেতা
ভালভাবেই জানেন। নিরামিষ আর আমিষ ভোজের আয়োজন করলে দেখা যায় লোকে আমিষের দিকেই ভিড় করে, খুব
কম লোক নিরামিষের দিকে যায়। তেমনি সৎ জ্ঞান (আত্মিক জ্ঞান) ও অসৎ জ্ঞান (জাগতিক
জ্ঞান) এই দুই জ্ঞানের জগৎ পাশাপাশি মানুষের পরিবেশে বিরাজ করলেও খুব কম লোক
জাগতিক সুখের জ্ঞান ছেড়ে দিয়ে আত্মিক জগতের জ্ঞান লাভের দিকে ধাববান হয়। তবে
মানুষের ইন্দ্রিয়গুলি এমনভাবে সৎ জ্ঞানের সাথে যুক্ত করা আছে যে মানুষ বেশীদিন
মিথ্যার মুখোশ পড়ে ডাকাতি করতে পারবে না, মিথ্যা প্রচার করে মানুষের মগজ ধোলায়
ততদিনই করা সম্ভব যতদিন সে ইন্দ্রিয় সুখের আশা করে এবং অজ্ঞানের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।
আত্মজ্ঞান বা নিজের জ্ঞান অন্তরে একবার জেগে উঠলেই, তখন অতি সহজেই ধর্মীয় মঞ্চে
মুখোশধারী ধর্মীয় নেতাদের মিথ্যা কথার জাল
থেকে, মানুষ মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসতে পারে। জয় বেদ যজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment