Friday, 19 May 2017

বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ-- ১৯/ ০৫/ ২০১৭


বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—১৯/ ০৫/ ২০১৭ স্থানঃ—পাটিয়া* ভুবনেশ্বর* উড়িষ্যা*
আজকের আলোচ্য বিসয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করবে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে অনুসরণ করে, তাহলেই তোমার অন্তঃকরণ দানশীল, প্রিয়বাদী, জিতেন্দ্রিয় ও লজ্জাশীল হয়ে উঠবে।]
আজকে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে নিয়ে আলোচনা শেষ করবো। বড় লেখা পড়ার পাঠক কম। তাছাড়া এই কলিযুগে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের চরিত্রের কথা কেউ শুনতেও চায় না। কিন্তু আমার তো কোন পথ নেই, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক আমাকে বেদযজ্ঞের আসরে এঁদের মহৎ চরিত্র নিয়ে আলোচনা করতেই হবে।
যুধিষ্ঠিরকে দেবদূতগণ নরক দর্শনে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি অন্য কোথাও যেতে চাইছিলেন না। ধন্য ছিল তাঁর দয়ালুভাবের অন্তঃকরণ। অল্পক্ষণ পরেই সেই সব দৃশ্য বিলীন হয়ে গেল এবং ইন্দ্র, ধর্ম আদি দেবগণ সেখানে এসে পৌঁছালেন। তাঁরা সকলে যুধিষ্ঠিরের এই শ্রেষ্ঠ মনোভাব দেখে অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে বললেন—‘ তুমি ছলনা করে গুরু দ্রোণাচার্যকে তাঁর পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যুসংবাদ বিশ্বাস করিয়েছিলে, তাই তোমাকেও ছলপূর্বক নরক দর্শন করানো হল। তোমার ভাইয়েরা সকলেই দিব্যলোকে পৌঁছে গেছে’। তখন যুধিষ্ঠির ভগবানের পরমধামে গেলেন, সেখানে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে সেই রূপে দর্শন করলেন, যেরূপে তিনি তাঁকে মর্ত্যলোকে দেখতেন। সেখানেই তিনি পরিচর্যারত অর্জুনকে দেখলেন, দেবী দ্রৌপদীকে লক্ষ্মীদেবীর রূপে দেখলেন। অন্য ভ্রাতাদেরও নানাস্থানে দেখতে পেলেন। শেষে তিনি তাঁর পিতা ধর্মের শরীরে প্রবিষ্ট হয়ে গেলেন। এইভাবে যুধিষ্ঠির তাঁর ধর্মবলে দুর্লভ গতি লাভ করেন।
  যুধিষ্ঠিরের পবিত্রতার এমনই অদ্ভুত প্রভাব ছিল যে, তিনি যেখানেই যেতেন, সেখানেই আবহাওয়া পবিত্র হয়ে উঠতো। পাণ্ডবেরা যখন বিরাটরাজের গৃহে অজ্ঞাতবাস করছিলেন, তখন কৌরবরা তাঁদের অনুসন্ধান করছিলেন। তখন প্রসঙ্গক্রমে পিতামহ ভীষ্ম, যিনি পাণ্ডবদের প্রভাব সম্বন্ধে জ্ঞাত ছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে, ‘ রাজা যুধিষ্ঠির যে নগরে বা যে রাষ্ট্রে থাকবেন সেখানকার জনতা দানশীল, প্রিয়বাদী, জিতেন্দ্রিয় ও লজ্জাশীল হবে। যুধিষ্ঠির যেখানে থাকবেন সেখানকার লোক সংযমী, সত্যপরায়ণ ও ধর্মে তৎপর হবে। তাঁদের মধ্যে ঈর্ষা, অভিমান, হিংসা থাকবে না। সেখানে সব সময় বেদযজ্ঞ হতে থাকবে, বেদ-ধ্বনি হবে, বিভিন্ন যাগ- যজ্ঞ হতে থাকবে, সময়মতো বর্ষা হবে, সেখানকার ভূমি ধনধান্যে পূর্ণ হবে এবং সেই স্থান সর্বপ্রকার ভয় ও উপদ্রবশূন্য হবে’ ইত্যাদি। শুধু তাই নয়—আমরা দেখেছি যে তাঁর সান্নিধ্যে নরকের প্রাণিও সুখ—শান্তি লাভ করেছিল। রাজা নহুষ, যিনি মহর্ষি অগস্ত্যের শাপে অজগর –জন্ম প্রাপ্ত হয়েছিলেন, যিনি ঐরূপে ভীমসেনকে নিজের ফাঁদে ফেলেছিলেন, তিনি যুধিষ্ঠিরের দর্শন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলা মাত্রই অজগর –জন্ম থেকে মুক্তিলাভ করে স্বর্গপ্রাপ্ত হন। এইরূপ পুণ্যশ্লোক মহারাজ যুধিষ্ঠিরের চরিত্র বেদযজ্ঞ আসরে আমরা যতই মনন করবো, আমরা ততই পবিত্র হয়ে উঠবো। জয় ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের জয়। জয় বেদযজ্ঞের জয়। জয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। (শেষ পর্ব )

No comments:

Post a Comment