Friday, 20 April 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ২৫৮ তারিখঃ-- ২০/ ০৪/ ২০১৮

   বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(২৫৮) তারিখঃ—২০/ ০৪/ ২০১৮  আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-- [বেদ যজ্ঞে শ্রমনীতি নিয়ে আলোচনা।]
   শ্রমের উপর নির্ভর করে সংসার সুষ্ঠুভাবে চলে। পরিশ্রম করবো না, এই কথা  সংসারে কেউ বললে সেই সংসার অচল হয়ে যায় এবং সেই সংসারে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। সংসারে পুরুষ নারী সকলের শ্রমের বিভাগ হয় জ্ঞানের তারতম্য অনুসারে। যার যে বিষয়ে জ্ঞান সংসারে সে সেই কাজ করবে শ্রদ্ধা সহকারে সবার মঙ্গলের জন্যে, তবেই সেই সংসার সবদিক থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
    সংসারে শ্রম দিয়ে সঠিক মূল্য না পেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। যুগ যুগ ধরে এক শ্রেণির মানুষ অপরকে ঠকিয়ে যায় সংসারে শয়তানী বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। যৌথ পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবার মূলে সংসারে এই রূপ দু- এক জন শয়তানী বুদ্ধিজাত নারী- পুরুষ। শ্রম দিয়ে ছেলে- মেয়েরা যে শিক্ষা পেয়ে ডিগ্রী পাচ্ছে অথচ  চাকুরী পাচ্ছে না এর মূলেও বৃহত্তর সংসারে শয়তানী বুদ্ধি কাজ করে চলেছে।  দেশের সন্তানরা মানুষ হলে কেউ শ্রমবিমুখ হয়ে বেকার থাকতে পারে নাকিন্তু সংসারে মানুষ তৈরী করার জন্যে শিক্ষা কোথায়?
   কৃষকেরা শ্রম দিয়ে মাঠে যে ফসল ফলায়, তার প্রকৃত মূল্য তারা কোথায় পায় না এর মূলেও মানুষের শয়তানী বুদ্ধি কাজ করে।  তাদের শ্রমের মূল্য টাকার অংকে মাপা যায় না, অথচ টাকার অভাবে কৃষকরা খেতে  পায় না, অনেককে আত্মহত্যা করতে হয়। কৃষক, কামার, কুমার, নাপিত এরা সকলেই যে সমাজের বন্ধু একথাটা আর মানব সমাজ স্বীকার করে না ও তাদের শ্রমের মুল্য দিতে চায় না। ফলস্বরূপ দিন দিন সমাজে বেকারের সংখ্যা বাড়তেই আছে।
  বুদ্ধি জীবিরা বুদ্ধি খাটিয়ে শ্রম দান করেন দেশের সবার মঙ্গলের জন্যে।  তাঁদের  শ্রমের মূল্য তাঁরা বর্তমান সমাজে পাচ্ছেন নিজ নিজ শয়তানী বুদ্ধির পথ ধরে, এই সত্য কথাটি এখন সবার জানা।  শ্রম দান করে যারা সৎ পথে অর্থ উপার্জন করেন, তাঁরাই কেবল দেশের সুনাগরিক। আর যারা সৎ পথে শ্রম দান না করে অর্থ উপার্জন করেন, তাঁদেরকে এককথায় চোর বলা যেতে পারে।  
   নিজের শ্রমের তালিকা যারা নিজে ঠিক করে সবার মঙ্গলের কথা ভেবে, তারাই কেবল অপরের শ্রমের মর্যাদা দিতে পারে। সৎ পথে ও কল্যাণের পথে  শ্রমের মর্যাদা দানের উপর দেশের উন্নতি নির্ভর করে। শ্রম দিবস নষ্ট হলে সে দেশের উন্নতিতে বাধা পড়ে। কত যুব শক্তির শ্রম দিবস কেবল আড্ডা দিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কতিপয় শয়তানী বুদ্ধির দালালদের জন্যে, সেদিকে কেউ তাকিয়েও দেখেন না। সমাজের বুকে যত রকম অনাচার- কদাচার- অত্যাচারের মূলে রয়েছে দমন- পীড়ন নীতির দ্বারা মানুষের মুক্ত চিন্তাধারাকে প্রতিহত করে রেখে, তাকে শ্রমবিমুখ করে তোলা ও শয়তানী বুদ্ধির ঘরে বন্দী করে রাখা। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।

No comments:

Post a Comment